‘এই শহরে থাকতে হলে চিনতে হবে’ তুমি চেম্বার অব কমার্সের সোহেলকে ফোন করো এরপর জিজ্ঞেস করো who, i m’
এভাবেই নারায়ণগঞ্জে শহরের চাঁদমারী এলাকার লিংক সড়কের চেম্বার অব কমার্স ভবনের সামনে উল্টোপথে যাওয়ার সময় গাড়ি আটকে দেওয়ায় যানজট নিরসনের দায়িত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের শাসিয়েছেন এক বিএনপি নেতা।
উল্টো পথের গাড়ি আটকে দেয়ায় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওই বিএনপি নেতা দম্ভাকারে উল্লেখিত মন্তব্যের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
যা এখন সকলে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে ‘Who i m, এই শহরে থাকতে হলে চিনতে হবে !’
এমন ভিডিও প্রকাশের পর অকেকেই অভিযোগ করে বলেন, ‘তিনি বিএনপি নেতা ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।’
তবে তার ইতিহাস ভিন্ন। ক্রসফায়ারে নিহত মমিন উল্লাহ ডেবিডের অন্যতম সহযোগী এই ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন বাবা ডাক্তার এম এ ওহাবের চাকরির সুবাদে নারায়ণগঞ্জ ২০০ শয্যা হাসপাতালে কুমিল্লা থেকে বদলী হয়ে এসে হাসপাতালের কোয়ার্টারে বসবাস শুরু করেন।
বড় ভাই লিটন দীর্ঘদিন যাবত পরিবার নিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন। আর বড় বোন জাকিয়া পারভীন লিপি যিনি বাবার পদাংক অনুসরণ করে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত হয়ে প্রসিদ্ধ হিসেবে নারায়ণগঞ্জে সুনাম রক্ষা করে যাচ্ছেন। আরেক বোন পলি পরিবার নিয়ে খুব ভালো অবস্থানে রয়েছেন সুনামের সাথে ।
আর এই রেজা রিপন স্কুল জীবন থেকেই উচ্ছৃঙ্খল জীবন বেছে নেয়ার এবং ডেবিডের অস্ত্র দিয়ে চাষাড়ায় একাই কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে নিজের হাত কেটে ব্যাপক অলোচনা ও সমালোচনায় নিজের অবস্থান তৈরি করে।
এ ছাড়াও ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে চাষাড়ায় হীরা মহল সংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন ভবনের মালিকের দেখা না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় রিপন। ওই সময় নির্মানাধীন ভবনের সামনে সাদা পশমের বিদেশী কুকুর নিয়ে অবস্থান নেয়ায় রিপনকে ঘিরে তখন সংবাদ প্রকাশ হয়েছিলো “কুত্তা রিপন কান্ড” শীর্ষক প্রতিবেদন।
আর এই খবরে রেজা রিপন ওই কুকুরটি ফেরত পাঠিয়ে শহরে নিজের ছবি সম্বলিত পোষ্টার সাটিয়ে দেয় দেয়ালে দেয়ালে। আর ওই পোষ্টারে লিখা ছিল, ‘আমি হলুদ সাংবাদিকার শিকার।’
ওই ধরনের অসংখ্য ঘটনা ছাড়াও বিএনপি সরকারের শাসনামলে মমিন উল্লাহ ডেবিড ক্রসফায়ারে মারা যাওয়ার পর ওই ক্রসফায়ারের তালিকার শীর্ষস্থানে এই রেজা রিপনের নাম উঠে আসে।
এমন ঘটনার পর চরম ভাবে নেশাগ্রস্থ থাকায় মরন ব্যাধি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরে রেজা রিপন।
এক দিকে ক্রসফায়ারের তালিকা থেকে নাম কাটাতে পরিবারের ভাই বোন ব্যাপক চেষ্টা চালায়। অপরদিকে চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা করে। বাবা ডাক্তার এম এ ওহাবের উপার্জিত অর্থে রাজধানীর বাড়িতে রেখে সার্বিকভাবে সুস্থ করে তুলতে প্রাণপণ সেবা করে পরিবার।
সেই ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন কে কেউ না চিনলে তার নারায়ণগঞ্জ থাকাত যোগ্যতা নাই বলে যে বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও দেখে রিপন ও তার পরিবারের সকলের তথ্য প্রকাশ করেছে নগরীর অনেকেই।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকার দিক আসা রেজা রিপনের গাড়িটি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার ভবনের অল্প দূরে উল্টোপথে চাষাঢ়ার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের পক্ষে যানজট নিরসনে থাকা শিক্ষার্থীরা গাড়িটি আটকে দেন। তখন রেজা রিপন এক ছাত্রকে ডেকে বলেন, ‘কী সমস্যা ?’ উত্তরে ছাত্রটি বলে, ‘এটি উল্টো দিক দিয়ে যাওয়ার গাড়ি না তো ।’
এরপর রেজা রিপন বলেন, ‘তোমরা চেম্বার অব কমার্সের না ? সোহেলকে (চেম্বার অব কমার্সের সহ সভাপতি) ফোন করো । ফোন করে জিজ্ঞেস করো হু আই এম ? আমি এখান দিয়েই যাব, সরো।’ এটি বলে তিনি গাড়ির গ্লাস উঠিয়ে দিয়ে যেতে চান। উত্তরে ছাত্রটি বলে, ‘চেম্বার অব কমার্সের হলেও আমরা ছাত্র। সবার জন্য আইন সমান।’
চাষাঢ়াগামী রাস্তা দেখিয়ে তা সম্পূর্ণ ঠিক আছে বলেও জানায়। এর মধ্যে রেজা রিপনের পক্ষে বিএনপি এক কর্মী এসে ছাত্রদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়।
ওই সময় রেজা রিপনকে বলতে শোনা যায়, ‘এই শহরে থাকতে হলে চিনতে হবে।’ গাড়ি আটকানো ছাত্রটি তখন ‘এটা বললে তো আর কিছু বলার নেই’ বলে গাড়িটি ছেড়ে দেন।
তবে ভিন্ন একটি সূত্র জানায়, রেজা রিপনের গাড়ি উল্টো পথে আসার পথে গাড়ি আটকে কোন কোন ছাত্র খুবই শান্তভাবে কথা বলেন, এদের মধ্যে একজন ভিডিও করেন আবার দুই একজন লাঠি হাতে বেয়াদবি করে। এমন বেয়াদবি ও অঙ্গভঙ্গি দেখেই রেজা রিপন ‘এই শহরে থাকতে হলে চিনতে হবে’ তুমি চেম্বার অব কমার্সের সোহেলকে ফোন করো এরপর জিজ্ঞেস করো who, i m’ মন্তব্য করে বিপাকে পরেন সেই সিভিল সার্জনের পুত্র ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন।









Discussion about this post