গ্যাস চুরির মহোৎসব চলছে এখনো। সেই ক্রোনী এ্যাপ্যারেলস ই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারী তিতাস গ্যাসের মূল সংযোগ থেকে চোরাইভাবে সংযোগ স্থাপনকালে গ্যাস বিস্ফোরবে দিগ্ধ হয় ১৪ জন। তিন দফা চোরাই গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরও কি করে চলছে ক্রোনী এ্যাপ্যারেলসে গ্যাস ? এমন তথ্য জানতে আজ বুধবার ১২ মার্চ হাটখোলাস্থ কারখানা ফটকে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায় নাই। তবে একজন নিরাপত্তা কর্মী তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমবারের পর থেকে মালিক ও কর্মকর্তা কর্মচারী সকলেই পলাতক রয়েছে। পরিস্থিতি ঠিক করতে তদ্বির চলছে৷
অসংখ্য ঘটনার পরও ক্রোনী এ্যাপ্যারেলসের মালিক কুখ্যাত অপরাধী সেই আসলাম সানী ফের কয়েকদফা চোরাই গ্যাস সংযোগ নিয়ে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার গ্যাস চুরি করেই যাচ্ছিলো ।
এমন ঘটনায় তিতাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করার ঘোষণা দিলেও এখনো পর্যন্ত রহস্যজনক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে তিতাস ।
ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও তিতাস কতৃপক্ষ আসলাম সানী ও তার কারখানার অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে মামলা না করায় সমালোচনার ঝড় বইছে নারায়ণগঞ্জে।
অনেকেই বলেন কুখ্যাত অপরাধী দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারকারী ওসমান পরিবারের অন্যতম দালাল আসলাম সানীর কয়েকজন বিশ্বস্থ্য বিশেষ পেশার নামধারী চক্র তিতাসের শত শত কোটি টাকার সম্পদ লুটপাটের ঘটনায় মামলা যাতে না রুজু হয় সেই লক্ষ্যে জোড়ালো তদ্বির চালিয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, ১০ কোটি টাকা বকেয়া বিল পরিশোধ না করে তৃতীয় দফায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেয়ার অভিযোগে সোমবার (১০ মার্চ) দুপুরে ওই কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
তিতাসের উপ মহাব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে ফতুল্লার হাটখোলা এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও প্রকৌশলীরা।
তিতাস কর্তৃপক্ষ জানান, অভিযানের সময় কারখানাটির অভ্যন্তরে মাটির নিচে গভীর স্থানে সাবস্টেশন বসিয়ে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বুস্টারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। চার ইঞ্চি ব্যাসার্ধের মোটা পাইপের মাধ্যমে নেয়া এই অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে শিল্প কারখানাটি প্রতি মাসে অন্তত দেড় কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহার করে উৎপাদন কাজ চালিয়ে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আসলাম সানীর ক্রোনী এ্যাপ্যারেলসের অবৈধ গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো।
তিতাসের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক বলেন, ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি কারখানাটির গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের লোকজন দিয়ে রাতের অন্ধকারে বিচ্ছিন্ন করা সংযোগটি অবৈধভাবে প্রতিস্থাপন করতে গেলে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
এ সময় বেশ কয়েকজন আগুনে দগ্ধ হন। খবর পেয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষ গিয়ে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অবৈধ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে জরিমানাসহ বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষকে পুনরায় নোটিশ দেয়। তবে তারা সরকারি আদেশ অমান্য ও বকেয়া বিল পরিশোধ না করে পুনরায় অবৈধভাবে সংযোগ প্রতিস্থাপন করে উৎপাদন কাজ পরিচালনা করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা টিম নিয়ে সোমবার দুপুরে কারখানাটি পরিদর্শনে যাই এবং সেখানে অভিযান চালাই। এ সময় সেখানে পুনরায় অবৈধভাবে সংযোগ প্রতিস্থাপনের প্রমাণ পাই। পরে আমরা তৃতীয়বারের মতো তাদের অবৈধ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন ও কিল করি।’
এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অর্থ মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিতাসের এই উপ-মহাব্যবস্থাপক।
তিতাসের এই উপ-মহাব্যবস্থাপকের এমন মন্তব্যের তিন দিনেও কোন মামলা দায়ের না করায় তিতাস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পূর্বের ন্যায় ফুসে উঠছে এলাকার অনেকেই মন্তব্য করে বলেন, ‘এতোদিন ওসমানীয় অপরাধী চক্র আসলাম সানীকে শেল্টার দিতো এখন তারে শেল্টার দিচ্ছে কে ?’









Discussion about this post