ঈদ কে সামনে রেখে দূর্ণীতিরাজ অসাধু চক্র প্রতি বছরের ন্যায় এবারো মাঠে নেমেছে ৷ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তাদের সকলেই রমজান মাসের শুরুতেই নানা পন্থায় ঈদ হান্টিং চালিয়ে যাচ্ছে ।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ক্রোনী এপারেলসের মহা ধুরন্ধর প্রতারক আসলাম সানীর কয়েকটি চোরাই গ্যাস সংযোগ চালু রাখতে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবী করে নারায়ণগঞ্জ তিতাসের দুই জন শীর্ষ কর্মকর্তা। প্রথম রোজা থেকে দফায় দফায় চলে দরকষাকষি। আসলাম সানীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা তিতাসের দুই কর্মকর্তাকে দেয়ার প্রস্তাব দিলেও তাতে রাজি না হয়ে সাড়াসী অভিযান চালিয়ে ক্রোনী কারখানার কয়েকটি অবৈধ তিতাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সাংবাদিকদের ডেকে আসলাম সানীকে ফের হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালায়।
এভাবেই নারায়ণগঞ্জ জেলার সকল অবৈধ গ্যাস সংযোগ গ্রহণকারীদের সতর্কবার্তা পাঠিয়ে ঈদ হান্টিং চালিয়ে যাচ্ছে । আর এই সময়ে অনেক অবৈধ সংযোগকারীরা আসলাম সানীর মতো দরকষাকষি করায় তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে মাঠে নামে তিতাসের অসাধু কর্মকর্তারা।
এমন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় এবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণদের নানাভা বিভ্রান্ত করে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ৪টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের তিতাসের অবৈধ গ্যাস–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১২ মার্চ) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সংযুক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে ওয়াহিদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
নারায়ণগঞ্জের চেংগাইল, ললাটি ও সোনারগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উক্ত অভিযানে ৪টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং অবৈধ বিতরণ লাইন উৎস পয়েন্ট থেকে বন্ধ করে সতর্কতা জারি করে তিতাস।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযানে ৩টি খানাঢুলী কারখানা ও ১টি মশার কয়েল তৈরির কারখানার মোট ৬টি ওভেনের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় প্রায় ১৭৫০ সিএফটি গ্যাস সাশ্রয় হলেও এতোকাল কি করেছে তিতাস? এমন প্রশ্ন ছিলো প্রত্যাক্ষদর্শী এলাকার সাধারণ মানুষের।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের আজ বুধবারের এই অভিযানে থাকা এক তিতাস কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই অভিযান হচ্ছে আরেক নাটক ! যারা এখনো অসাধু কর্মকর্তাদের দাবী অনুযায়ী উৎকোচ দিয়ে আসে নাই তাদের তালিকা করে বিচ্ছিন্ন নাটক করে যাচ্ছে। আর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তো বুঝেন না নেপথ্যের কাহিনী কি ? ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় কে বোঝানো হচ্ছে এগুলি অবৈধ সংযোগ, আর তাতেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিচ্ছেন ম্যাজিস্ট্রেট। আর এই নাটক করে হাজার হাজার অবৈধ সংযোগকারীদের কাছ থেকে করছে ঈদ হান্টিং! নইলে এতোকাল এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলো না কেন ?’









Discussion about this post