একেই বলে, আগারটাও (গাছের উপরের) খায়, তলার (গাছের নীচের) ও কুড়ায় !’ অর্থাৎ সকল সুবিধা যেন তারই দখলে রাখতে হবে।
আর এমন দখল রাখতে অপরাধ সাম্রাজ্য নিজের নিয়ন্ত্রণের জন্য সকল সরকারের শাসনামলে সুবিধা আদায় করতে চরিত্র বিসর্জন দিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে চালাচ্ছে প্রাণপণ চেষ্টা।
এমন এক কুখ্যাত অপরাধী পরিবারের নাম ফতুল্লার ‘আলী‘ পরিবার।
স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধার তীলক কপালে এঁটে ব্যাংক ডাকাতি থেকে শুরু করে অপরাধ সাম্রাজ্য এখনো চালিয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম গডফাদার শামীম ওসমান অর্থাৎ ওসমান পরিবারের পরিক্ষিত দালাল মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবার।
ফ্যাসিবাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দেশবাসী জুলাই-আগষ্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গনঅভ্যুথ্থানে বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা গত ৫ আগষ্ট দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
সেই সাথে শামীম ওসমান ও তার পুরো পরিবার একই সাথে ওসমানীয় চেলা চামচা পালিয়ে গেলেও এখনো বীরের বেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই ওসমানীয় সাম্রাজ্যের অন্যতম দালাল ‘নয় লাইখ্যা মোহাম্মদ আলী’ ও তার পরিবারের সকল অপরাধী চক্র। আর তাদেরকে সম্প্রতি ঘৃণা নিয়ে প্রত্যাখ্যান করে ‘মোহাম্মদ আলীর দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’ বলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শ্লোগান দেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। ওই সময় অনেকেই মোহাম্মদ আলীর পরিবারকে ডেভিল হিসেবে মন্তব্য করে সকলেই।
এরপরেও এখনও প্রকাশ্যে মোহাম্মদ আলী পরিবারের অসংখ্য ডেভিল ঘুরে বেড়াচ্ছে বিএনপি নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে।
জেলা বিএনপির কেউ কেউ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিএনপির পদ-পদবী পেয়েছেন আবার কেউ কেউ সামান্য টাকার বিনিময়ে সাময়িক রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে চষে বেড়াচ্ছে ফতুল্লার জ্বালানী চোরাই ব্যবসা, চালাচ্ছে দখল ও ভূমিদস্যুতা- চাঁদাবাজি।
এদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন এনায়েতনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জের সাবেক গডফাদারখ্যাত সাংসদ শামীম ওসমানের আস্থাভাজন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার উপর হামলায় দায়েরকৃত মামলার অন্যতম আসামী হাবিবুর রহমান লিটন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এফবিসিআইসি’র সাবেক সহ- সভাপতি এবং ১৯৯৬ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের এমপি মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা আওয়ামী ডেভিল হাবিবুর রহমান লিটন তৎকালীন সাংসদ শামীম ওসমান ও তার চাচার সহযোগিতায় এনায়েতনগর ইউপির উপপনির্বাচনে কৌশলে নামমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের অন্যতম অধিপতি হয়ে নানা প্রকার কাজ করেন। ‘যেখানে শামীম ওসমান সেখানে চেয়ারম্যান লিটন’ এমন শ্লোগান তুলে পুরো এনায়েতনগর জুড়ে দখল চাঁদাবাজির রামরাজত্ব অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।
জুলাই-আগষ্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার উপর হামলার দায়ের কয়েকটি মামলারও আসামী হয়েছেন নয় লাইখ্যা মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা লিটন।
আওয়ামী রনাঙ্গনের সেই লিটন বর্তমানে বিএনপি নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চালিয়ে যাচ্ছে প্রাণপণ চেষ্টা।
১২ এপ্রিল ফতুল্লা ডিআইটি মাঠে তারেক জিয়া ঘোষিত রাষ্ট্র অবকাঠামো সংস্কারের ৩১ দফা নিয়ে বিশাল জনসভার আয়োজন করেছিলো ফতুল্লা থানা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন। সেইদিনের সেই জনসভাতেও এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মো.আবু তাহের আজাদের ব্যানারে একটি মিছিল নিয়ে ডিআইটি মাঠে যান সেই নয় লাইখ্যা মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা হাবিবুর রহমান লিটন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, আসলে বিগত সময়ে লিটন তার চাচা মোহাম্মদ আলী ও শামীম ওসমানের বদৌলতে চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। তার পর থেকে বর্তমানে পলাতক সাবেক এ সাংসদের সাথেই সখ্যতা গড়ে নিয়মিতভাবে চলতেন লিটন। আওয়ামী দুঃশাসনামলে বিএনপির ৯৮ ভাগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা থাকার কারনে তারা কেউ বাসাবাড়ি-কিংবা এলাকাতে থাকতে পারেনি। সেই আওয়ামী ডেভিল লিটন এখন কিভাবে এলাকায় থেকে পুর্বের ন্যায় এখনও বীরদর্পে চলাচল করছেন তা বোধগম্য হচ্ছে না। এখন সেই ডেভিল কিভাবে বিএনপির ব্যানারের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে সভাস্থলে যায় এবং বিএনপি নেতার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তা বুঝতে পারছিনা।
এলাকাবাসীর দাবী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় দায়েরকৃত কয়েকটি মামলা আসামী এই হাবিবুর রহমান লিটন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে অপরাধ সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে কিভাবে ? ফতুল্লা থানার সামনে দিয়ে কি করে মিছিন নিয়ে এলকাায ফের আধিপত্য বিস্তার করার সাহস করছে সেই নয় লাইখ্যা মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা লিটন ।
(মোহাম্মদ আলীর পরিবারের অপরাধ নামার বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট এর এই নিউজ পোর্টালে)









Discussion about this post