ফতুল্লায় সংবাদ সংগ্রহকালে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক মিলন বিশ্বাস হৃদয় ও ফটো সাংবাদিক হাবিব খন্দকার।
আজ রোববার (৪ মে) বেলা তিনটায় ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মাসদাইর শ্মশানের সামনে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে নির্মিত ‘প্রতিরোধ স্তম্ভ’ দখল করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ইট-বালু-পাথরের ব্যবসা চালিয়ে আসছে প্রভাবসগালী চক্র। এই অবৈধ দখল ও ব্যবসার বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন সাংবাদিকরা।
হামলার শিকার আহত মিলন বিশ্বাস হৃদয় জানায়, ‘প্রতিরোধ স্তম্ভ ঘিরে কারা ব্যবসা করছে তা জানার জন্য আমরা সেখানে যাই। ছবি তোলার পর স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ সালাউদ্দিন, জাকির হোসেন ও আরও ৫-৬ জন এসে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে রক্তাক্ত জখম করে। পরিচয় পেয়েও আমাদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে এবং আমাদের একটি দোকানে আটকে রাখে।’
এমন ঘটনায় সংবাদ পেয়ে সহকর্মী সাংবাদিকরা এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এমন সন্ত্রাসী হামলার নেতৃত্বদানকারী সালাউদ্দিনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশের হাতে কাছে হস্তান্তর করে অন্যান্য সাংবাদিকরা।
এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ফতুল্লা থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় দৈনিক উজ্জীবিত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই হামলার নেপথ্যে থাকা সালাউদ্দিন এক সময় নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমানের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিল। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যার মামলা রয়েছে, যা থেকে মাত্র দুই দিন আগে জামিনে মুক্তি পেয়েছে।’
স্থানীয়রা জানান, প্রতিরোধ স্তম্ভটি সালাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছে এবং সেখানে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। প্রশাসন প্রতি বছর একটি নির্ধারিত দিনে সেখানে ফুল দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। সারা বছর ই এটি সন্ত্রাসীদের দখলে থাকে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শরিফুল ইসলাম জানান, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হামলাকারী সালাউদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









Discussion about this post