নারায়ণগঞ্জ শহরের চাঞ্চল্যকর হকার জুবায়ের হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড ও দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া এই রায় ঘোষণা করেন।
এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো : ইকবাল ওরফে ডাক্তার, স্বপন, সায়মন, সানি। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো – রাসেল ও হাসান।
এই মামলায় খালাস পেয়েছে শামীম ওসমানের অন্যতম অনুসারী হকার লীগ নেতা নানা অপরাধের হোতা চাঁদাবাজ আসাদ।
এ ঘটনায় কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক কাইয়ুম খান বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের গির্জার সামনে হকার জুবায়ের হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অপর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে বলাকা পেট্রোল পাম্পের গির্জা সংলগ্ন ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে হকার জুবায়েরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। জুবায়ের ফতুল্লার উত্তর মাসদাইরের আমজাদ হোসেনের ছেলে।
জুবায়ের হত্যার পর তার মা মুক্তা বাদী হয়ে ইকবালসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করলে ওই মামলায় নানা সাক্ষি গ্রহণ শেষে আজ মঙ্গলবার উল্লেখিত রায় প্রদান করে আদালত।
মামলায় সূত্রে জানা যায়, শহরের সাধু পৌলের গির্জার সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে সাদেকের জুতার দোকানে চাকরী করতেন জুবায়ের। ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে হকার স্বপনের সঙ্গে জুবায়েরের বাগবিতণ্ডা হয় এবং এক পর্যায়ে স্বপন তাকে বলাকা পেট্রোল পাম্পের সামনে নিয়ে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী এর প্রতিবাদ করলে ইকবাল পাশের মহসিনের দোকান থেকে ধারালো চাকু এনে জুবায়েরকে কুপিয়ে জখম করে এবং অন্যান্য আসামীরাও তাকে মারধর করে পালিয়ে যান। ছুরিকাঘাতে আহত জুবায়েরকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মৃত ষোষনা করেন।
এ ঘটনায় দন্ডপ্রাপ্ত ও খালাসপ্রাপ্ত সকলেই পুরো নগরীর চিহ্নিত অপরাধী। পুরো নগরীতে শামীম ওসমান, হেলাল, আজমেরী ওসমান, অয়ন ওসমানসহ অন্যান্যদের শেল্টারে চাঁদাবাজির রামরাজত্ব চালিয়ে পুরো নগরবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিলো। ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ পতনের পর গডফাদার শামীম ওসমানসহ অন্যন্যরা পালিয়ে গেলে চাঁদাবাজ আসাদ, রহিম মুন্সী করিম মুন্সী, মহসিন, সোহেলসহ অন্যান্যরা গাঢাকা দেয়। বর্তমানে অপর একটি চক্র পুরো নগরীর ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করে চালাচ্ছে ওই পুরোনো কায়দায় রামরাজত্ব।
মূলতঃ প্রতিটি ফুটপাতের দোকানীদের সকলেই একেকজন নিহত জুবায়েরের মতো ৫শত টাকা দৈনিক হাজিরার (রোজের) ভিত্তিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে। আর অধিকাংশ দোকানের মালিক থাকে পর্দার আড়ালে। ফুটপাতের একেজন দোকানী নেতাদেরকে দোকান প্রতি কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকায় ফুটপাতের দখল নিয়ে প্রতিমাসে ভাড়াবাবদ ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়া দিয়ে এই ফুটপাত দখল করে জনসাধারণের ভোগান্তির সৃষ্টি করেই যাচ্ছে । আর ফুটপাতের দোকানীদের অসহায় হিসেবে দাঁড় করিয়ে মানবিকতার ঢেঁকুর তুলছে পুরো চক্রের অপরাধীরা।









Discussion about this post