মুন্সীগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা দিয়ে ঢাকায় আসা যাওয়ার পথ আরো সহজ করতে দ্রুত গতিতে চলছে মুক্তারপুর উড়াল সড়ক।
আগামী বছর ২০২৬ সালের শেষের দিকে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ শেষ হচ্ছে।
আর এই উড়াল সড়ক চালু হলে লাগব হবে জন দূর্ভোগ।
আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করতে এখন দ্বিতল সড়কে চলছে ডেস্কস্ল্যাব বসানোর কাজ। পাইল, পিয়ার ও ডেস্ক প্যানেলসহ প্রকল্প জুড়েই চলছে কর্মযজ্ঞ। কাজ শেষ করতে দিনরাত ২৪ ঘন্টা প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নিরলস প্রচেষ্টায় দৃশ্যমান হয়ে উঠছে দ্বিতল সড়কটির অধিকাংশ অবকাঠামো।
ড়াল সড়কের প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানায়, মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের সঙ্গে রাজধানীর সহজ যোগাযোগের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়ক আধুনিকায়নে পঞ্চবটি মোড় থেকে ছয় লেনে ৩১০ মিটার করে ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ দুই দিকে প্রসারিত হবে।
একই সাথে পঞ্চবটি মোড় থেকে শীতলক্ষ্যা-৩ সেতুর গোলচত্বর হয়ে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত হবে চার লেন সড়ক। পঞ্চবটি থেকে চর সৈয়দপুরের শীতলক্ষ্যা-৩ সেতু পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ দুই লেন সড়ক হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।
বাকি দুই লেন নিচতলায়। মুক্তারপুর সেতু থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত ১০ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ পথে তিন ধরনের সড়ক নির্মাণ হচ্ছে। আর এই উড়াল সড়কে ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেস’ হচ্ছে ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। নিচতলা ফ্রি হলেও দোতলা সড়কে চলাচলে লাগবে টোল।
মুক্তারপুর পঞ্চবটী উড়াল সড়ক প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার পর যানজট এড়িয়ে এই সড়কে যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনির।
প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনির জানান, প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার পর মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা জেলার সাথে সুষ্ঠু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে দেশের যোগাযোগ এবং অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পটির কাজ সমাপ্ত করতে প্রকল্প এলাকায় চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ।
এই প্রকল্পের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করার জন্য দ্রুত গতিতে নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে।
চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান স্যানডং লুকিয়াও গ্রুপ ও চায়না স্যানডং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্রার কো-অপারেশন গ্রুপ ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করবে বলেও আশ্বস্ত করেছে। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত । ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
২ হাজার ২৪২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি এরই মধ্যে ৪৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই পথে যানবাহনের গতি বাড়বে প্রায় পাঁচ গুণ। প্রকল্পটি জিওবি এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।









Discussion about this post