ফ্যাসিস্ট সরকরের বিরুদ্ধে জুলাই আগষ্টের আন্দোলনে হতাহতের ঘটনা অসংখ্য। নির্মম এমন অসংখ্য হত্যাকান্ড ঘিরে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা ও বিচারের দাবীতে সোচ্চার রয়েছে সকলেই । এমন হতাহতের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে মামলাও হয়েছে শতাধিক। আবার এই নির্মমতাকে পুঁজি করে কিছু অসাধু চক্র এরই মধ্যে মামলা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। যেমন গত বছর ২০ জুলাই সন্ধ্যায় ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন আদমজী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলাম। তলপেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মিনারুলকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন, এমন তথ্য ও ঘটনা উল্লেখ করে মামলা দায়ের করলেও নিহতের মিনারুলের ভাই নাজমুল হক পরবর্তীতে স্বীকার করেন তিনি বাধ্য হয়ে এই মামলা করেছেন।
আর ওই ঘটনাকে পুঁজি করে মামলার বাদী নাজমুল হক ও ভিকাটিম সিদ্ধিরগঞ্জের গার্মেন্টস কর্মী মিনারুল ইসলামের স্ত্রী হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। পরবর্তীতে নাজমুল হক নিজেই স্বীকার করেছেন তার ভাই মারা গেছেন সড়ক দূর্ঘটনায় । যা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের রেজিস্টারে রয়েছে এমন দূর্ঘটনার তথ্য । এই ঘটনায় (নাজমুল হক) ‘বাদী নিজেই স্বীকার করলেন মামলাটি মিথ্যে’। এমন মিথ্যে ঘটনার পরও মামলা বাণিজ্য চলছে বিরামহীনভাবে । এমন বানিজ্যের ঘটনায় এবার জাগো নিউজ তুলে ধরেছেন আরো একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন, যা হুবহু তুলে ধরা হলো।
নারায়ণগঞ্জে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সজল মিয়া (২০) নামের এক তরুণ। এ ঘটনার ৯ মাস পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন নিহতের মা।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬২ জনের জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে বাদীর ভাষ্য, এজাহারে উল্লেখিত আসামিদের নাম তিনি দেননি। এ বিষয়ে এক আসামির ছেলের সঙ্গে বাদীর কল রেকর্ড হাতে এসেছে। তবে পুলিশ বলছে, বাদীর দেওয়া নামেই মামলা রুজু হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (১৬ মে) রাতে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ সজল মিয়ার মা রুনা বেগম (৪৭) বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। একই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০০-১৫০ নেতাকর্মীর নাম রয়েছে।
মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান, শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমান প্রমুখ।
অডিও রেকর্ড সূত্রে জানা যায়, ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি মামলার ৪০ নম্বর আসামির ছেলে রাব্বি। বাদীকে তিনি বলেন, ‘আন্টি, আমার আব্বুর নামে মামলা দিয়েছেন। কী কারণে দিলেন বা কী বিষয়ে?’ প্রশ্নের উত্তরে বাদী বলেন, তুমি কোন জায়গা থেকে বলছো ? জবাবে ছেলেটি বলেন, আমি সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে বলছি। আমার বাবা রিকাবুলের নামে মামলা হয়েছে। এরপর বাদীকে বলতে শোনা যায়, আমি মামলা করেছি ঠিক আছে, কিন্তু মামলার ব্যাপারে আমি কারও নাম উল্লেখ করিনি।
তখন রাব্বি বলেন, ‘আন্টি, আমার আব্বুর নামে যে মামলাটা দিলো, আমরা তো অসহায়। এরপর শহীদ সজলের মা বলেন, তোমার বাবার নামও আমি জীবনে শুনি নাই ।
এরপর ফোনে থাকা রাব্বি বলেন, ‘আন্টি, আমার আব্বু মারা যাবে, ফাঁসি দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে’। এসময় বাদী রুনা বেগম বলেন, আমার সন্তান আন্দোলনে মারা গেছে। এর বিচার আমি সরকারের কাছে চাই। কিন্তু আমি কারও নামে মামলা দেইনি। আমার ছেলে সিদ্ধিরগঞ্জে মারা গেছে, তাই আমি ওই থানায় গিয়ে বিচারের দাবিতে মামলা করেছি। কিন্তু কারও নামে দেইনি। আমি তোমার বাবার বিষয়ে কী করা যায় দেখবো।
এ মামলার বাদী রুনা বেগমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছে প্রতিবেদক। রুনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে শহীদ হয়েছে সবাই জানে। আমি আমার ছেলে হত্যার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছি। কিন্তু ওই মামলায় আমি কোনো আসামির নাম দেইনি। অজ্ঞাত আসামি রেখে আমি মামলা করেছিলাম। এখন শুনেছি আমার মামলার আসামি নাকি অনেককে করা হয়েছে। আমার সঙ্গে অনেকে যোগাযোগও করেছেন।’
মামলায় আপনি আসামি দেননি তবুও এত আসামি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করেছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সিদ্ধিরগঞ্জ যাবো। তবে সময় পাইনি এখনো। আমি এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলবো।’
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাদীর অনেক সিকিউরিটির বিষয় আছে। এগুলো উনি বলতেই পারেন। মামলার আসামিতে তো নিরীহ কেউ নাই। উনি আসামির নাম দিছেন। এখন মিথ্যা কথা বলছেন তিনি।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন বাদীর ছেলে সজল মিয়া আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। ওইদিন মামলার উল্লেখিত আসামিরা জনতাকে প্রতিহত করতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ওইসময় আসামিদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ভিকটিমের পেটে গুলি লাগে। তখন ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চিটাগাং রোডের সুগন্ধা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।









Discussion about this post