সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে লাঠি মিছিল করেছেন নারায়ণগঞ্জের হোসিয়ারি ব্যবসায়ী নেতারা।
আজ শনিবার (২৪ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নয়ামাটি হোসিয়ারী পল্লী, করিম মার্কেট ও গুলশান সিনেমা হল এলাকায় লাঠি হাতে ও বাঁশি বাজিয়ে মিছিল করেন বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বদিউজ্জামান বদুর নেতৃত্বে বিএনপির নেতারা। এমন লাঠি হতে ও বাঁশি বাজিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানের পর পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হয় কর্মসূচি।
তবে এমন কর্মসূচির ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমেদ বলেন, “নারায়ণগঞ্জে বড় কোনো সন্ত্রাসী ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যাবে না। ছোটখাটো কিছু চুরি-ছিনতাই হয়ে থাকতে পারে। এদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে অভিযান চালিয়ে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। উনারা লাঠি মিছিল করলেও তাদের অভিযোগ সুস্পষ্ট নয়। সুস্পষ্ট কারও বিষয়ে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।”
এমন লাঠি হতে ও বাঁশি বাজিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানের ঘটনায় মুহুর্তের মধ্যে নগরীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃস্টি হয়। এমন লাঠি হতে ও বাঁশি বাজানোর ঘটনায় তাৎক্ষনিক মন্তব্যে অনেকেই বলেন, “বিগত সময়ে আওয়ামীলীগের নাম দারী কুখ্যাত অপরাধীরা লুটপাট করে খেয়েছে হোসিয়ারি ব্যবসায়ীদের সম্পদ। সন্ত্রসাী ও চাঁদাবাজি চলতো অবিরাম। অভিনব বিচারালয় খুলে বিচারের নামে হোসিয়ারী ব্যবসায়ীদের ডেকে এনে এক প্রকার টর্চার সেল তৈরী করে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের ঘটনা ছিলো ওপেন সিক্রেট। কিন্তু এখন কারা এই চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে ? অন্ততঃ কয়েকজন চাঁদাবাজদের নাম প্রকাশ করা উচিৎ ছিলো। এতোবড় একটি সংগঠন এমন অপরাধীদের কাছে জিম্মি হলেও তারা মুখ খোলার সাহসও করছে না। তবে কে, বা কারা এমন সস্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ ?”
এমন মিছিলের পর বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বদিউজ্জামান বদু জানান, আমরা চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ব্যবসায়ীদের একত্রিত হয়ে এমন মিছিল করেছি। কিছু দুষ্কৃতকারী, চাঁদাবাজ মার্কেটে এসে মালিকদের কাছে জোর করে চাঁদা দাবি করছে। আমরা আইনকে শ্রদ্ধাশীল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই হোসিয়ারী সমিতির সদস্যরা লাঠি মিছিল করে বুঝিয়ে দিলাম আমরাও চাঁদাবাজদের প্রতিহত করতে পারি। আমরা আইন হাতে তুলে নিলাম না। সন্ত্রাসীদের বুঝিয়ে দিলাম সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি করলে আমরা প্রতিহত করতে প্রস্তুত আছি।
লাঠি হতে ও বাঁশি বাজিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মিছিল শেষে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বদু বলেন, নয়ামাটি ও করিম সুপার মার্কেট হোসিয়ারি ব্যবসায়ীদের এলাকা। প্রতিদিন কোটি টাকার পণ্য কেনাবেচা হয় হোসিয়ারি পল্লীতে। হোসিয়ারি মালিকদের উপর চাঁদাবাজদের দৌড়াত্ম বেড়েছে। প্রশাসনকে এগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ করছি।









Discussion about this post