ফতুল্লার সেই চাঞ্চল্যকর ব্রাজিল বাড়ির তেলচোর সিন্ডিকেটের শীর্ষ অপরাধী পলাতক আজমেরী ওসমানের অন্যতম সহযোগী বৈষম্য বিরোধী মামলার আসামী টুটুল এখনো অধরা থেকে গডফাদারখ্যাত সাংসদ শামীম ওসমানের আস্থাভাজন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার উপর হামলা মামলার আরেক আসামী আসামী হাবিবুর রহমান লিটনকে ব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছে চোরাই তেলের কারবার।
এমন খবর সকলের জানা থাকলেও কেউ সেই পুরানো জুজুর ভয় মুখ খুলতে সাহস করছে না।
একদিকে সেই ব্যাংক ডাকাতদের সর্দাারখ্যাত নয় লাইখ্যা মোহামম্মদ আলী আওয়ামীলীগের শাসনামলে ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের পর এখনো (৫ আগস্টের পর থেকে) সেই নয় লাইাখ্যা চাচার প্রভাবে ভাগিনা ফরিদ, সুমন, রনি, ভাতিজা রিপন, চেয়ারম্যান লিটনের মাধ্যমে চোরাই তেলের ব্যবসাসহ সকল অপরাধের রাম রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃংখলা বাহিনীর নাকের ডগায়।
আর আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রায় ৯৯ শতাশ কর্মকর্তা কর্মচারী ঘুষ পেলেই তুষ্ট থেকে সকল অপরাধকে বৈধতা দিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখছেন বিগত সময়ের মতোই। ফলে তেলচুরির মহোৎসব চলছেই ।
যেহেতু আইনশৃংখলা বাহিনীর অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারীই ঘুষের কাছে হার মেনে অপরাধ কর্মকান্ড চালাতে সহায়তা করার সুযোগে আবার সেই ব্রাজিল বাড়ির তেলচোরদের হোতা জয়নাল আবেদীন টুটুল নয় লাইখ্যা মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার উপর হামলা মামলার অন্যতম আসামী হাবিবুর রহমান লিটন ও রিপন কে ম্যানেজ করে কোটি কোটি টাকার তেলচুরির কর্মকান্ড সকলের সামনেই চালাচ্ছে ।
টুটুলের ভয়ে ভীত নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে যমুনা ওয়েল ডিপোর একজন কর্মচারী বলেন, “আজমেরী ওসমানের শেল্টারে দীর্ঘদিন টুটুল এককভাবেই ডিপোর তেলচুরির বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে। যা এখন ভারতের কলকাতায় পলাতক সেই আজমেরী ওসমানের পরামর্শ অনুযায়ীই মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা লিটন ও রিপন কে দিয়ে ফোনে ফোনে সকল সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে টুটুল। আর এই চোরাই তেলের বিশাল অর্থ টুটুল নিজেই হুন্ডির মাধ্যেমে কলকাতা পাঠায় প্রতিনিয়তঃ। টুটুলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে আজমেরী ওসমানের। আজমেরী ওসমানের বিশাল অস্ত্র ভান্ডারের কিছু অংশ টুটুলের হেফাজতে রয়েছে। টুটুলকে গ্রেফতার করলেই অনেক অজানা তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। কিন্তু এই টুটুলকে গ্রেফতার করবে কে, আর তথ্য ই বা উদঘাটন করবে কে ? আইনশৃংখলা বাহিনীর অধিকাংশরাই ম্যানেজ টুটুলের তেলচুরির টাকায়।”
বিগত আওয়ামীলীগের শাসনামলে একেবারেই ওপেন সিক্রেট ছিলো টুটুলের নগ্ন কর্মকাণ্ড । বিগত ১৫ বছর শামীম ওসমান ও আজমেরী ওসমানকে ম্যানেজ করে যমুনা ডিপোতে সকল ধরনের অপরাধ কার্যক্রম করতেন টুটুল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও দুদকে তদন্ত চলমান থাকলেও কেউ তার পশম ছুতে পারেনি। উল্টো দুদকের কর্মকর্তাদের কোটি টাকায় ম্যানেজ ছাড়াও শামীম ওসমান ও তার ভাতিজা আজমেরী ওসমানের প্রভাব দেখিয়ে দুদক কর্মকর্তাদের ধমক দিয়েও কার্য্য হাসিল করতে মহাপটু ছিলো টুটুল। এবার নিজেকে আড়ালে রেখে সেই টুটুল সকল অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করেই যাচ্ছে ।
৫ আগষ্টের পর অনেকের পরিবর্তন হলেও যমুনার তেল চুরির সেই সাম্রাজ্য এখনো রয়েছে টুটুলের নিয়ন্ত্রণ। আর এই টুটুল মুঠোফোন (০১৭১২ ৭……….৯১) বন্ধ করে ইন্টারনেট চালু রেখে হোয়াটস অ্যাপের সাহায্যে প্রতিনিয়তঃ ব্যাংক ডাকাত নয় লাইখ্যার মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা তেল চোরদের গডফাদার হাবিবুর রহমান লিটন ও রিপনের সাথে আলোচনার পর নতুন করে সেই পুরানো ভঙ্গিমায় চালিয়ে যাচ্ছে ডিপোর তেলচুরি।
নির্ভরশীল একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, এই টুটুল এখনো ডিপোর তেলচুরির মাস্টারমাইন্ডার। কোটি কোটি টাকার তেলচুরির ভাগভাটোয়ারার কত অংশ কার কার কাছে কিভাবে পাঠানো হবে তার হিসাবও নিয়ন্ত্রণ করেন টুটুল। আর এই তেলচুরির বিশাল একটি অংশ এখনো হুন্ডির মাধ্যেমে প্রতিমাসে ভারতের কলকাতায় পাঠানো হয়।
সেই টুটুল তেল চুরির শত শত কোটি টাকার মালিক হলেও পলাতক অবস্থানে থেকে সকলকে ম্যানেজ করে গ্রেফতার এড়াতে সকল চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
টুটুলের ভয়ে এখনো ভীত হয়ে যমুনা ওয়েল ডিপোর সকল কর্মকার্তা কর্মচারীরা থাকেন টটস্থ। কেউ কোন উল্টোপাল্টা (টুটুলের নির্দেশনা না মেনে) কাজ করলে সেই হোয়াটস অ্যাপের সাহায্যে মুহূর্তে মুহূর্তে হুমকি ধমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে জ্বালানী তেলের এই ডিপোর ভিতরের অনেকের মুখে ।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, সবশেষ গত ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল যমুনা ডিপোর ম্যানেজারকে শায়েস্তা করতে টুটল নিজে উপস্থিত থেকে আজমেরী ওসমান ও তার অস্ত্রধারী বাহিনীকে নিয়ে ডিপোতে অবস্থান নেয়। ওই সময় সকলকে হুমকি দিয়ে টুটুল জানান দেয়, তার কথার বাইরে ডিপোর একফোঁটা জ্বালানী তেল নড়চড় হবে না !’
অর্থাৎ নিজেকে ফতুল্লার রাস্ট্রীয় জ্বালানী প্রতিষ্ঠানের মালিক মনে করতেন এই টুটুল।
কোন কর্মকর্তা টুটুলের তেলচুরিতে বাধা হয়ে দাঁড়ালে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে অস্ত্রের বিশাল মহড়া চলতো প্রকাশ্যে।
তবে টুটুল এখনো ফতুল্লার যমুনা ওয়েল ডিপোতে তেলচুরির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং কাগজে কলমে সেখানে অফিসও করেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, এই তেলচোরা জয়নাল আবেদীন টুটুলের বাবা মো: রফিক ছিলেন ফতুল্লার পঞ্চবটিতে অবস্থিত রাষ্ট্রয়াত্ব তেল কোম্পানী যমুনা অয়েল কোম্পানীর সিকিউরিটি গার্ড (দারোয়ান)। নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্তব্যপালনরত অবস্থায় তিনি মারা যাওয়ার পর তার পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে টুটুল যুমনা তেল ডিপোতে অস্থায়ী হিসেবে কাজ পায়। অস্থায়ী ভিত্তিতে (নো ওয়ার্ক নো পে) ডিপোর ক্যান্টিন বয় হিসেবে। তার কাজ ছিল প্লেট ধোয়ার। বিনিময়ে দৈনিক ৫০ টাকা পেতেন। গ্রামের স্কুলে থ্রি-ফোর পর্যন্ত, তারপর ফাইভ-সিক্স নারায়ণগঞ্জের লেখা-পড়ার কথা জানিয়েছেন টুটুল। ক্যান্টিন বয় থেকে এক সময় স্থায়ী চাকরী পেয়ে যান ডিপোর গ্রেজার (তেল মাপার অপারেটর) সেকশনে।
তেল মাপার চাকুরী পাওয়ার পর টুটুলকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তার ভাগ্যের চাকা আশ্চর্যজনকভাবে খুলে যায়। আর অল্পদিনের মধ্যে তেল চুরির বিদ্যা রপ্ত করে ধূর্ত টুটুল। প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার তেল চুরির সিন্ডিকেটের সঙ্গে টুটুলের ভূমিকা ছিলো মূখ্য। যমুনা অয়েল কোম্পনীর নিয়ন্ত্রণ করা, তিনজন কর্মকর্তা ও দুইজন সিবিএ নেতার সমন্বয়ে ছিলো ওই সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের ইশারায় বদলী, পদায়ন থেকে শুরু করে সব কিছুই।
আর এই সিন্ডিকেটের কাজে বাধা হলেই টুটুলের ইশারায় টর্চার সেলের নির্যাতন আর অস্ত্রধারীদের মহড়া ছিলো চোখে পরার মতো।
এমন কর্মযজ্ঞের বিষয়ে টুটুলের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল, ম্যাসেজ দিয়ে অসংখ্যবার বক্তব্য চেয়ে অপেক্ষা করার পরও কোন বক্তব্য দেয় নাই টুটুল।









Discussion about this post