আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলের পুরোটা সময় ফ্যাসিষ্ট সরকারের সুবিধা গ্রহণ করে আঙ্গুল ফু্লে কলাগাছ বনে যাওয়া বিতর্কিত ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদের ঈদ পুনর্মিলনীতে ১৫ হাজার মানুষকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে আজ শনিবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ শহর বন্দরের অনেক লোকজন এই ব্যবসায়ীর আমন্ত্রণে নগরীর বরফ কল মাঠে আয়োজিত বিশাল শামিয়ানার তলদেশে উপস্থিত হয়ে সেই মাসুদের নৈকট্য লাভের চেষ্টায় নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন।
যা নিয়ে নগরীতে গত কয়েকদিন যাবৎ চলছে ব্যাপক গুঞ্চন ও সমালোচনার ঝড়।
এমন ঘটনায় ব্যাপক নগরীতে যেমন বিতর্কিত ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদের আমন্ত্রণে অনেকে আবেগে আপ্লুত হয়ে নতুন ঈদের মতো পোষাক পরিহিত অবস্থায় হাজির হচ্ছেন আবার এই নগরীতে অনেকেই এই বিতর্কিত ব্যবসায়ীর আমন্ত্রণ ঘৃণ্যভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আমন্ত্রণ প্রত্যাক্ষাণ করা অনেকেই বলেছেন, ফ্যাসিষ্ট সরকারের বিগত ১৫ বছরে কোন রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ মডেল গার্মেন্টসের কর্ণধার মাসুদুজ্জামান মাসুদের (যাকে নগরীর সকলেই মডেল মাসুদ হিসেবেই চিনেন) মাাঝে দেখা না গেলেও অর্থ উপর্জনে তিনি ছিলেন করিৎকর্মা। আওয়ামীলীগ সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে নানা নগ্ন পন্থায় ম্যানেজ করে এই মাসুদুজ্জামান মাসুদ সিটিজেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ফ্যাসিষ্ট সরকারের শাসনামলে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গিয়ে এবার হাজাারো অভিযোগ থাকার পর সেই বিতর্কিত ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদের খায়েস জেগেছে নারায়ণগঞ্জের এমপি (সংসদ সদস্য) হওয়ার । যার কারণে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিলে নানাভাবে পোস্টার ফ্যাষ্টুন, লিফলেট বিতরণে করে নগরীতে পরিচিতি লাভ করতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
৫ আগষ্টে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার পর নানা আরেক বিতর্কিত ব্যবসায়ী হাতেমের সাথে মিলিত হয়ে একদিকে ব্যবসায়ী সংগঠন চেম্বার অব কমার্স দখল করে মাসুদুজ্জামান মাসুদ । অপরদিকে হাতেম দখল করে বিকেএমইএএর মতো সংগঠন। এরপর থেকে তাদের চাঁদা প্রদান ও ফেরৎ আনার মতো একের পর এক নাটক মঞ্চায়ন চলছেই অবিরাম। যা আজো দৃশ্যমান।
আজ শনিবার (১৪ জুন) নগরীর খানপুর বরফকল মাঠে ১৫ হাজার লোকের মধ্যাহ্নভোজের এই আয়োজন কে কেন্দ্র করে অনেকেই বলেছেন, আমাদের অনেকেই যেন আইন মানতে চান না তার প্রমাণ করলেন বিগত সময়ের ফ্যাসিষ্ট সরকারের অন্যতম সুবিধাভোগী বিতর্কিত ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদ। যিনি ওসমান পরিবারের অন্যতম দালাল হিসেবেও পরিচিত ছিলো বিগত সময়ে। সেই বিতর্কিত ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদ ওরফে মডেল মাসুদ জীবনের দীর্ঘ সময় আওয়ামীলীগ ও ওসমান পরিবারের দালালী করলেও এবার তিনি বিএনপির টিকেটে নমিনেশন পেতে নানা নাটক মঞ্চায়ন করেই যাচ্ছেন যার প্রতিফলন আজকে ঈদ পুনর্মিলনী নামক নাটক ।
নগরীতে বিতর্কিত ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ ও গুঞ্জন থেকে আরো জানা যায়, বিগত সময়ে অসংখ্য অপরাধ করলেও এই সময়ে যেখানে দেশে সেনাবাহিনী দেশের শাসন ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে এই মাসুদ ১৫ হাজার লোককে দুপুরের মধ্যাহ্ন ভোজের আমন্ত্রণ করে দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়েছেন। যেমন ১৯৮৪ সালের অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, দেশের যে কোনো সেন্টারে বিয়ে, জন্মদিন, আকিকা বা অন্য কোনো অনুষ্ঠান করতে হলে অনুমতি নিতে হয়। এক্ষেত্রে অতিথি ১০০ বা তার কম হলে সরকারকে কোনো ধরনের রাজস্ব দিতে হয় না। তবে এর বেশি হলেই জনপ্রতি ২৫ টাকা হারে রাজস্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। এই আইন কি তিনি পালন করেছেন ? আর এমন ১৫ হাজার লোকের আমন্ত্রণের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন আসলে কি করেছেন ? বিতর্কিত ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদের অবৈধ অর্থের কাছে কি তাহলে জিম্মি নারায়ণগঞ্জের আইনশৃুংখলা বাহিনী ? নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা কি বলবেন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখানোর বিষয়ে ? এমন অসংখ্য গুঞ্জন চলছে নগরী জুড়ে।









Discussion about this post