গণপিটুনির সবশেষ ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার৷ কুমিল্লার মুরাদনগরে একই পরিবারের তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়৷ এর আগে রোববার গাজীপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে কারখানায় এক শ্রমিককে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল৷ আর শনিবার রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়৷
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএস এর হিসেব বলছে, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে গণপিটুনির ১০০৯টি ঘটনায় কমপক্ষে ৮১৬ জন নিহত হয়েছেন৷ তবে প্রকৃত গণপিটুনির ঘটনা ও নিহত-আহতের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি৷ গত ১০ বছরের মধ্যে ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান ‘সবচেয়ে ভীতিকর’ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি৷
গণপিটুনির ঘটনাগুলোর মধ্যে কতগুলো ঘটনার বিচার হয়েছে জানতে চাইলে মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যতদূর মনে পড়ে শুধুমাত্র বাড্ডার রেনু বেগমের মামলাটির বিচার হয়েছে৷ এছাড়া এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ঘটনার বিচার হয়েছে বলে আমার মনে পড়ে না৷”
বাড্ডায় যা হয়েছিল
২০১৯ সালের ২০ জুলাই ঢাকার বাড্ডায় স্কুল প্রাঙ্গণে ‘ছেলেধরা’ গুজবে তাসলিমা বেগম ওরফে রেনু নামে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল৷ সেদিন উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাসলিমা তার চার বছরের মেয়েকে ভর্তি করানোর বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন৷ সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নারী তাকে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহ করেন৷ এই গুজব দ্রুত বাইরে ছড়িয়ে পড়ে৷ আশপাশ থেকে বিভিন্ন বয়সী কয়েক শ নারী-পুরুষ স্কুল প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েন৷ তাদের মারধর থেকে রক্ষা করতে তাসলিমাকে স্কুলের দোতলায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে রাখা হয়৷ এর মধ্যে কয়েকজন বিদ্যালয়ের কলাপসিবল গেট ভেঙে দোতলায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যান৷ তারা তাসলিমাকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামিয়ে পেটাতে শুরু করেন৷ প্রায় আধা ঘণ্টা নির্যাতনের পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তাসলিমা৷ এ ঘটনায় তাসলিমার ভাগনে সৈয়দ নাসির উদ্দিন অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচ শ ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন৷
নিউজ ও ছবি : ডয়চে ভেলে









Discussion about this post