জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনের অবসান হয়েছে। কিন্তু সারা দেশে এখনো আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে যাঁরা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে, তাদের আস্ফালন থামেনি। অব্যাহত রেখেছেন পুরানো কায়দায় নানা অপকর্ম ।
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ৩৬ জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হয়েছে।
বিজয়ের বর্ষপূর্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে সারাদেশে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করা হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে সোমবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জের ময়লার ভাগাড়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়িত সারাদেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জেই প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করা হয়েছে ।
প্রথম ’জুলাই শহীদের স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করেন আওয়ামী লীগের দোসর ফ্যাসিবাদ, শহীদের রক্তের সাথে বেইমানী করেছেন গণপূর্ত !
জানা যায়, সারাদেশে প্রথম ‘জুলাই শহীদের স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ কাজের জন্য নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট নির্দেশ প্রদান করা হলে তিনি তার পছন্দের ও ব্যবসায়ী পার্টনার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লিংকার্স ওয়ার্ল্ড নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। যা এরই মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে নগরজুড়ে।
নগরীর অনেকেই কঠোর সমালোচনা করে বলেন, নারায়ণগঞ্জে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ একজন ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলেন। বুয়েটের একটি হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেই সুবাধে ছাত্রলীগের কোঠায় চাকুরী নিয়ে বহাল তবিয়্যতে থাকার পর বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে বদলী হয়ে এসে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে চিহ্নিত ফ্যাসিষ্ট গডফাদার শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট সহযোগি এবং গণপূর্তের ক্যাশিয়ারখ্যাত সাইফ ইসলাম সোহাগের সাথে আতাঁত করে গণপূর্তের সকল কাজ সোহাগের মাধ্যমে করান নির্বাহী প্রকৌশলী।
এই সোহাগ ও গণপূর্তের আরেক ক্যাশিয়ার সালাহ উদ্দিনকে সাথে নিয়ে টেন্ডার বাণিজ্যের কোটি কোটি টাকা বস্তায় ভর্তি করে কখনো শামীম ওসমানের জামতলার বাড়িতে, কখনো রাইফেল ক্লাবে আবার কখনো ন্যাম ভবনে পৌঁছে দেয়ার ঘটনা রয়েছে অসংখ্য।
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট শামীম ওসমান পালিয়ে গেলে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের সাথে অংশিদারী (পার্টনার) ভিত্তিতে সেই ফ্যাসিষ্ট সরকারের মতাদর্শ বাস্তবায়ন ও বাণিজ্য করতে ছাত্রলীগের ক্যাডার সাইফ ইসলাম সোহাগ চালিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন নাটক মঞ্চায়ন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান লিংকার্স ওয়ার্ল্ডের সাইফ ইসলাম সোহাগ ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোসর শামীম ওসমানের হাজীগঞ্জ এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত আওয়ামী লীগের দাপটে সেলিম ওসমানের সাথে গার্মেন্টস ব্যবসার ঠিকাদারীতেও একচ্ছত্র আধিপত্য চালিয়ে বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক । সাইফ উদ্দিন সোহাগ তৈরি করেছেন নিজস্ব সন্ত্রাসী একটি বাহিনী।
নারায়ণগঞ্জেই প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ লিংকার্স ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার সাইফ ইসলাম সোহাগ কর্তৃক নির্মান শেষে উদ্বোধনের পর হাজিগঞ্জের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় যারা দিনের আলোতে রাজপথে পাখির মতো গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালায় সেই ফ্যাসিষ্ট সরকারের অন্যতম দোষর ছাত্রলীগ নেতা গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ ও তার সহযোগি পার্টনার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতা সাইফ ইসলাম সোহাগ কিভাবে আবার রাতের আঁধারে তড়িগড়ি করে প্রথম ‘জুলাই শহীদের স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ কাজ করেছেন ময়লার ভাগাড়ের মধ্যে ? নগরীতে এতো খালী জমি থাকার পরও এই ময়লার ভাগাড়ে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করে শহীদদের সাথে তামাশা করেছে সেই পুরানো ফ্যাসিষ্ট চক্র। যা এই নগরবাসীর সাথে চপেটাঘাত করার সামিল। দ্রুত ফ্যাসিষ্ট সরকারের এমন দোষরদের কঠোর বিচার দাবী করছি।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে কয়েকজন সাধারণ ঠিকাদার বলেন, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে পুরো সময় সালাউদ্দিন – সোহাগ চক্র লুটপাটের আখড়া হিসেবে পরিণত করে ছিলো গণপূর্তকে। এখনো সেই শামীম ওসমানের ক্যাশিয়ার সোহাগ নতুন যোগদান করা নির্বাহী প্রকৌশলী ছাত্রলীগের ক্যাডার হারুন অর রশিদের আশ্রয়ে সেই রাম রাজত্ব অব্যাহত রেখেছেন। আর আমরা সাধারণ প্রায় ৩০/৪০ জন ঠিকাদার বিগত সময়ের মতো অবহেলিত। আমরা এমন কান্ডে বিচার দাবী করছি।
এ বিষয়ে গণপূর্তের উপ সহকারী প্রকৌশলী (১) আবদুস সালাম বলেন, জরুরী ভিত্তিতে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লিংকার্স ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার সাইফ ইসলাম সোহাগ নির্মাণ করেছেন ।
‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধনের পর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, জরুরী ভিত্তিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লিংকার্স ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার সাইফ ইসলাম সোহাগের মাধ্যমে ১৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, “ছাত্রলীগের ক্যাডার হারুনকে অনতিবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার ও শাস্তির দাবী করছি। একই সাথে সেই শামীম ওসমানের অন্যতম দোসরকে দিয়ে কি করে প্রকৌশলী হারুণ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করালো তাও তদন্ত পূর্বক এই চক্রের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরী। এমন ঘটনা জুলাই শহীদদের সাথে তামাশা করার সামিল।“
এমন ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন বলেন, “ফ্যাসিষ্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে হতাহত শহীদদের সম্মান স্মৃতি ধারণ করতে নারায়ণগঞ্জেই প্রথম এই ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মিত হয়েছে। সারাদেশেই এই ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করা হবে। একই সাথে জুলাই শহীদ স্মৃতি কমপ্লেক্সও নির্মিত হবে । আর তার জন্য সকলেই বৈঠক করে এমন সরকারী জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের ক্ষেত্রে এখন ছাত্রলীগের দোসরদের কারা আশ্রয় দেয় তাও তুলে আনা জরুরী। শামীম ওসমানের ক্যাডার এই ঠিকাদার বিএনপির কার আশ্রয়ে এখনো ঠিকাদারী করছে তা উদঘাটন করতে হবে। একই সাথে জুলাই শহীদদের সাথে এবং তাদের পরিবারের সম্মান অটুঁট যাতে থাকে আমাদের সকলের প্রচেষ্টা থাকবে আন্তরিক।









Discussion about this post