জাভেদ পাটোয়ারী। যিনি ৬ষ্ঠ বিসিএস-এ (১৯৮৪) পুলিশ ক্যাডারে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করেন। শিক্ষানবিশ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার কাশিপুরের সর্দার বাড়ির সিদ্দিকুর রহমানের একমাত্র মেয়েকে বিয়ে করলেও নারায়ণগঞ্জবাসীর অনেকের ছিলো অজানা । দীর্ঘদিন পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার পর পুলিশের শীর্ষ পদবী ২৭তম মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নারায়ণগঞ্জবাসী জানতে পারেন জাভেদ পাটোয়ারী এই জেলার জামাই।
পুলিশ সুপার হিসেবে নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে হারুন এর সাথে কৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের চরম বিরোধের এক পর্যায়ে ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ লাইনসের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলে ওই অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান তার বক্তব্য প্রদানকালে জাভেদ পাটোয়ারীকে নারায়ণগঞ্জের দুলাভাই হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। শামীম ওসমানের সেই দুলাভাই জাভেদ পাটোয়ারী ছিলেন ২০১৮ সালের রাতের আধারের নির্বাচনের মাষ্টারমাইন্ডার।
এমন ঘটনা বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে।
সেই পলাতক শামীম ওসমানের দুলাভাই আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী রাতের আঁধারের ভোট কারচুপি হোতা বলে আদালত কে জানিয়েছেন সদ্য সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে রাতেই ৫০ শতাংশ ব্যালট বাক্স ভরে রাখতে শেখ হাসিনাকে আইডিয়া দিয়েছিলেন তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীর, সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয় মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক মামলায় চলতি বছরের ২৪ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঁচ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তিনি আরও জানান, গুম, নির্যাতন ও ক্রসফায়ারের সিরিয়াস নির্দেশনা আসতো প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে। সরাসরি নির্দেশনা দিতেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকি। এসব কার্যক্রমের অনেক কিছুই পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থেকেও তার অজানা থাকত।
তিনি বলেন, কাউকে উঠিয়ে আনা, গুম করে রাখার মতো বিষয়গুলো সাবেক সামরিক উপদেষ্টা জেনারেল তারিক সিদ্দিকি সরাসরি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতেন। এ ব্যাপারে পুলিশের আইজি হওয়া সত্ত্বেও আমাকে সবকিছু অবহিত করা হতো না। ব্যারিস্টার আরমানের টাস্কফোর্স ইন্টেলিজেন্স (টিএফআই) সেলে বন্দি থাকার বিষয়টিও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা।
আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে জ্বীন বলে ডাকতেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। কেননা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর মনে করা হতো তাকে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েই জুলাই আন্দোলন দমনে ব্যবহার হয় মারণাস্ত্র ও হেলিকপ্টার থেকে গুলি। শেখ হাসিনার নির্দেশনার কথা সেসময়ে পুলিশ প্রধানকে সরাসরি জানান তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা হতো প্রতিরাতের বৈঠকে।
যেখানে তিনি বলেছেন, গত বছরের ১৯ জুলাই থেকে প্রায় প্রতিরাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় বৈঠক হতো তাদের। বৈঠকে দুইজন সচিব, এসবি প্রধান মনিরুল ,ডিবির হারুন, র্যাবের মহাপরিচালক, আনসারের ডিজি, এনটিএমসির জিয়াউল আহসানসহ অনেকে উপস্থিত থাকতেন। মূলত এ বৈঠকেই সব পরিকল্পনা হতো।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।









Discussion about this post