নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিচিত্র অনেক ঘটনা সব সময়ই হতবাক করে দেশবাসীকে। একজন গডফাদার শামীম ওসমান জন্ম সূত্রে নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা হলে তার পূর্ব পুরুষ কুমিল্লা থেকে ব্যবসার তাগিদে এই নগরীতে বসবাস শুরু করলেও আর ফিরে যান নাই পুরানো ভিটেতে। দীর্ঘদিন এই নারায়ণগঞ্জে থেকেই নগর বাসীকে ওসমান পরিবার শোষন করেছেন, সর্বত্র চালিয়েছেন নির্যাতনের স্টিম রোলার। যা মনে করে ভূক্তভোগি ছাড়াও সাদারণ মানুষের অনেকের গা শিউরে উঠে। আর ওই সময় নারায়ণগঞ্জ শহর – বন্দর – ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জকে বলা হতো ”ওসমানগঞ্জ” হিসেবে। অপরদিকে রূপগঞ্জকে বলা হতো গাজীগঞ্জ হিসেবে।
একইভাবে গাজী গোলাম দস্তগীর, শামীম ওসমান ছাড়াও এক সময়ের জাতীয় পাটির ছাত্রনেতা নজরুল ইসলাম বাবু সেই আড়াইহাজার থেকে লেখাপড়ার সুবাদে নারাায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পেয়ে যান আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ। পিছনে তাকাতে হয় নাই বাবুকে। কয়েকবারের এমপি ও শেষবার হুইপ হয়ে নজরুল ইসলাম বাবু আরেক গডফাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
হাজার হাজার কোটি টাকার দূর্ণীতি করে তিনি আলোচনায় আসলেও আঙ্গুলীর ইশারায় ও ক্ষমতার দাপটে সব কিছুকেই ম্যানেজ করতেন বাবু। তার কথার বাইরে আড়াইহাজারে নাকি গাছের পাতাও নড়তো না । সেই আড়াইহাজার উপজেলাকে এলাকাবাসী ডাকতো ”বাবুগঞ্জ” হিসিবে।
সেই ”বাবুগঞ্জের” (আড়াইহাজারের) এমপি ( পরে হুইপ ) বাবুর ক্যাশিয়ার লাক মিয়া এবার দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে প্রকাশ করেছেন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের ও প্রায় ৭০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের লাক মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দ্বিতীয় দিনের মতো দুদকের প্রধান কার্যালয়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রাকিবুল হায়াতের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল। গত ২৮ জুলাই আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। আজ ছিল রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন।
৬ মার্চ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের লাক মিয়া ও তার স্ত্রী মাহমুদা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক দুই মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুর্নীতির মামলার এজাহারে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান লাক মিয়ার বিরুদ্ধে ৫৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। লাক মিয়ার ৪৯ ব্যাংক হিসাবে ১৪ হাজার ৩৭৬ কোটি লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অপরদিকে দ্বিতীয় মামলায় লাক মিয়ার স্ত্রী মাহমুদা বেগম ও লাক মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। মাহমুদা বেগম ও লাক মিয়ার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ১৪ ব্যাংক হিসাবে ৪৬১ কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় অভিযোগের মামরায় রিমান্ডে থাকা জিজ্ঞাসাবাদ চলছে অত্যান্ত বিধি মোতাবেক পন্থায়।
দুদক এবং লাক মিয়ার পারিবারিক একাধিক সূত্র থেকে আরো জনা যায়, মূলত এই হাজার হাজার কোটি টাকার অধিকাংশটাই নজরুল ইসলাম বাবু ও তার স্ত্রী আড়াইহাজার উপজেলার ডাক্তার সায়মা আফরোজ ইভার থাকলেও আইনগত জটিলতা এড়াতে স্বশিক্ষিত লাক মিযা ও তার স্ত্রীর নামে বিশাল এই অর্থ লেনদেন ও পাচার করা হয়েছে। ৫ আগষ্টের পর স্বামী নজরুল ইসলাম বাবুর সাথে আড়াইহাজার উপজেলার চাকরী ফেলে পালিয়ে যান ডাক্তার সায়মা আফরোজ ইভা। ডাক্তার ইভা ও তার পৈত্রিক স্বজদের কাছেও ওই টাকার সিংহভাগ পাচার হয়েছে । যা স্বচ্ছ তদন্ত হলে বেড়িয়ে আসবে লোমহর্ষক তথ্য।









Discussion about this post