রূপগঞ্জ উপজেলার পিতলগঞ্জ মৌজায় ডিপো এক্সেস ও ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (লাইন-১) এর করিডোর নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের নামে সরকারি কোষাগার থেকে ৪ কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১৮ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মো. রিয়াজ উদ্দীন (৫৭) নামের একব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
প্রতারক এই রিয়াজ উদ্দীন ঢাকার লালবাগের বাসিন্দা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এমন তথ্য জানান।
আক্তার হোসেন জানান, দুই – একদিনের মধ্যে মামলাটি দায়ের করা হবে।
আসামি রিয়াজ উদ্দীনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় মামলা দায়েরের অনুমোদন করা হয়েছে।
দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, রিয়াজ উদ্দীন নামে ওই এলাকার স্থানীয় এক ব্যক্তি জালিয়াতি ও প্রতারণা করে ভূমি অধিগ্রহণের নামে সরকারি কোষাগার থেকে ৪ কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১৮ টাকা উত্তোলন করে এবং ওই আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত রিয়াজ উদ্দীন অধিগ্রহণ হওয়ার তার সংশ্লিষ্ট জমির মূল দলিল হারিয়ে গেছে মর্মে রূপগঞ্জ থানায় ৫টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ওই দলিলগুলোর সার্টিফায়েড কপি উত্তোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে দাখিল করে জমা দেন এবং ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করে সেই টাকা আত্মসাৎ করে।
এমন অর্থ আত্মসাৎ করতে প্রতারণার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অসাধু চক্র জড়িত রয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কয়েকজন ককর্মকর্তা বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় এরপূর্বে ৪২ লাখ টাকার ঘুষকান্ড ঘিরে লংকাকান্ড ঘটলেও অনেক তথ্যই এখনো রয়ে গেছে অজানা। ওই ৪২ লাখ টাকার ঘুষকান্ডে প্রথমেই শামীম ওসমানের শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটুর ক্যাশিয়ার এম এম রানাকে আটক করলেও ঘটনা ভিন্নখাতে তথ্য গোপন করে তৎকালীন জেলা প্রশাসক। এরপরেও থেমে থাকে নাই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অপকর্ম। ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহায়তায়ই এই পৌনে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে রিয়াজ উদ্দীন। রিয়াজ উদ্দীনকে গ্রেফতার করে স্বচ্ছতার সাথে তদন্ত করলেই বেড়িয়ে আসবে চাঞ্চল্যকর সকল তথ্য । কিন্তু এই তথ্য উদঘাটন করবে কে ?









Discussion about this post