এবার চরম দূর্ণীতিকে উৎসাহিত করলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রকাশ্যে দূর্ণীতি, ঘুষ কেলেংকারীসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ জোড়ালোভাবে উত্থাপনের পর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরীকে বদলী করা হয়েছে।
দূর্ণীতিবাজ ঘুষ কেলেংকবারীর হোতা ইউএনও মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরীকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে কুমিল্লা জেলায় পদায়ন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে বদলী করা হলেও পূর্বের স্থান নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় আরো কিছুদিন থাকার জন্য সরকারি দপ্তরগুলোতে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছে এই মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী । এমন গুঞ্জন সদর উপজেলার কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে গুঞ্জন উঠেছে।
উল্লেখিত অসংখ্য অভিযোগ ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যন নিয়োগ দিয়ে বিশাল বাণিজ্যের অভিযোগ জোড়ালোভাবে উত্তাপিত হয়েছে সর্বত্র। আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদে সেই ওসমানীয় দালাল জাকির চেয়ারম্যানকে তোষামোদ করছে এই ইউএনও, কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদেও সেই ওসমানীয় অন্যতম দালাল ডাকাত গেসুপুত্র শামীম মেম্বরকে মোটা অংকের টাকায় অধিষ্ঠিত করেছেন আইনের মারপ্যাচে ফেলে। একই পন্থায় বক্তাবলীতে সেই কুখ্যাত ওসমান পরিবারের অন্যতম দালাল ও বৈষম্য বিরোধী অসংখ্য মামলা আসামী রশিদ মেম্বারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রমরমা বাণিজ্যের জোড়ালো অভিযোগ উঠেছে এই ইউএনও মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী বিরুদ্ধে।
আরো অভিযোগ জোড়ালোভাবে উত্তাপিত হয়েছে, বিভিন্ন টেন্ডার বাণিজ্য ছাড়া্ও কোরবানীর হাটে ঘুষের ডাক বসিয়ে কে কত ঘুষ দিতে পারবেন এমন ঔধ্যত্বপূর্ণ আচরণ করে সকল হাট ইজারাদারদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করেছেন। এক্ষেত্রে একজন গণমাধ্যমকর্মী একটি হাট ইজারা নেয়ায় তাকের ঘুষ কান্ড থেকে মুক্তি দেন নাই এই ইউএনও মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী।
এদিকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ না দেয়ায় বক্তাবলীর রাজাপুর খেয়াঘাটের বৈধ ইজারাদারের ইজারা বাতিল করে নতুন করে একজনকে ইজারা প্রদান করে। এমনকি হাইকোর্টের আদেশকে তোয়াক্কা না করে এক ঘেয়েমি সিদ্ধান্তে বৈধ ইজারাদারের ইজারা বাতিল করে ঐ এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি করে। পরে ইউএনও মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বৈধ ইজারাদার ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আলী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এতো অভিযোগের পর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এক আদেশে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় নতুন নির্বাহী অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে তাছলিমা শিরিনকে।
তাছলিমা শিরিন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৫তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। তিনি নারায়ণগঞ্জে এসে যোগদানও করে ফেলেছে। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজে উঠলেও নব নিযুক্ত এই ইউএনও তাছলিমা শিরিনকে দায়িত্ব হস্তান্তরে গরিমসি করছেন মহাধূরন্ধর দূর্ণীতিবাজ ও প্রতারক মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী ।
উল্লেখ্য, বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশব্যাপী প্রশাসনের সকল পদে পরিবর্তন আনার জন্য উদ্যোগ নেয় অন্তবর্তীকালীন সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন জাফর সাদিক। আর জাফর সাদিক পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, শ্রমিক অসন্তোষ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক অপসারণ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান অপসারন, ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পালিয়ে যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার কাজ করতে হয় এই মহাধূরন্ধর দূর্ণীতিবাজ ও প্রতারক জাফর সাদিক চৌধুরীকে। দেশের এমন টালমাটাল পরিস্থিতির সুযোগে মহাধূরন্ধর দূর্ণীতিবাজ ও প্রতারক জাফর সাদিক চৌধুরী সকল দপ্তর গুলোতে নতুন লোক নিয়োগ দেয়ার সময় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে দরকষাকষি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদ ও আলীরটেক ইউনয়ন পরিষদে সেই ওসমানীয় ঘনিষ্ট দালালদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে গিয়ে নিজের একক সিদ্ধান্তে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে অধিষ্ঠিত করা হয়। এছাড়াও আলীরটেক, কাশিপুর, ফতুল্লা, কুতুবপুর ইউনিয়নে এমন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদের কাছে মাছের বাজারের মতো দরকষাকষি করে ঘুষ গ্রহণ করে মহাধূরন্ধর দূর্ণীতিবাজ ও প্রতারক জাফর সাদিক চৌধুরী।
এছাড়াও প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের জিম্মি করে সরকারের উন্নয়ন খাত থেকে কমিশন নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে এই দূর্ণীতির দায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত ইউএনও জাফর সাদিক চৌধুরী।









Discussion about this post