সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেক থেকে অজ্ঞাত পরিচয় ২১ বছর বয়সী এক যুবকের অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধারের একদিন পর শনাক্ত হয়েছে নিহতের পরিচয়। নিহত যুবকের নাম ইয়াসিন ।
ইয়াছিন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরের মোহাম্মদ আলীর একমাত্র পুত্র। ইয়াসিনের বাবা সৌদি প্রবাসী। ইয়াছিন ও তার দুই বোনের পড়াশোনার সুবিধার জন্য শহরের চাষাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন ইয়াছিনের মা আফরিনা নাসরিন।
মা আফরিনা নাসরিনের জন্য ওষুধ কিনতে ৫০ টাকা হাতে নিয়ে বের হয়েছিলো ইয়াছিন। বাসার পাশেই কয়েকটি ফার্মেসি, ছেলের ফিরতে ১০ মিনিট না লাগলেও দীর্ঘ সেময় অপেক্ষায় ছিলেন মা। মায়ের সে অপেক্ষা বিষাদে রূপ নিয়েছে।
নিখোঁজের দুইদিন পর ইয়াছিনের ভাসমান লাশ পাওয়া যায় চাষাড়াস্থ বাসা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন এলাকার একটি লেকে। চিকিৎসকদের ধারণা, ১৭ বছর বয়সী এ কিশোরকে হত্যা করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৪ আগষ্ট) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেনারের (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে নিহতের পরিচয় শনাক্তের পর শোকে ভেঙ্গে পরেন পরিবারের সদস্যরা। নির্বাক হয়ে পড়েছেন মা আফরিনা নাসরিন। শোকাহত এই মায়ের মানসিক পরিস্থিতিতে তার সঙ্গে ছেলের বিষয়ে কথা বলা যায়নি।
নিহত ইয়াছিনের মামা মনসুর বলেন, ওর সঙ্গে কি হইসে, কিভাবে বাসা থেকে কয়েক কিলোমিটর দূরে ডিএনডি লেকে পাওয়া গেল লাশ, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা করতে পারতেছি না। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান মামাসহ নিহতের স্বজনরা।
এ সময় মর্গের সামনে ইয়াছিনের মামা মনসুর রহমান আরো বলেন, তিন ভাই-বোনের মধ্যে ইয়াছিন সবার ছোট। সে নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল নয়াপাড়া বৌ বাজার এলাকার বেইজ স্কুলে পড়াশোনা করতো। এবার এসএসসিতে জিপিএ-৪ দশমিক ৬২ পাস করেছিল।
নিহতের ইয়াছিনের মামাতো ভাই মুনতাসির রহমান জিহাদ জানায়, গত সোমবার (১১ আগষ্ট) সন্ধ্যায় হাতে মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বের হয় ইয়াছিন। কিন্তু অনেক সময় পরও বাড়িতে না ফেরায় বাসার লোকজন মোবাইলে কল দিতে থাকে। কিন্তু রিসিভ করেনি। রাত ২টা পর্যন্ত ইয়াছিনের মোবাইলটি সচল ছিলো।
একমাত্র পুত্র ইয়াছিনকে না পেয়ে রাতেই নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন মা আফরিনা নাসরিন।
পরবর্তীতে বুধবার (১৩ আগষ্ট) সকালে বাসা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাইনাদী সিআইখোলার ডিএনডি লেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।
ইয়াছিনের মরদেহের ময়নাতদন্তের পর নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক হায়দার আলী শিমুল জানান, নিহতের মাথা ও বুকে আঘাতের আলামত পাওয়া গেছে। পানিতে ডুবে মারা গেলে পেটে যে পানির উপস্থিতি পাওয়া যায় তেমনটি পাওয়া যায় নাই। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে এই ঘটনাকে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই ওয়ালী সওদাগর জানান, নিহত যুবকের মরদেহ উদ্ধারের পর বুধবার রাতে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। পরিবারের ভাষ্যমতে তার সঙ্গে মোবাইল থাকার কথা। কিন্তু মরদেহের সঙ্গে ফোনটি পাওয়া যায় নাই। পরনে জুতা পেয়েছি একটি । আমরা গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করছি। হত্যাকাণ্ড হলেও তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে।









Discussion about this post