রাজধানীর গুলিস্তান ও মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামসহ আশেপাশের এলাকায় গতকাল রবিবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে ঝটিকা মিছিল বের করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ওই মিছিলে নারায়ণগঞ্জের বিতর্কিত ওসমান পরিবারের অনুসারীরা অংশ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) পল্টন মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। উল্লেখিত ১২ জনের মধ্যে ১০ জনই নারায়ণগঞ্জের।
ওই মিছিলের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো, বন্দরের নুরুল ইসলামের ছেলে মো. রাজু আহমেদ (৩৫), নিতাইগঞ্জের শেখ মো. আব্দুল রশিদের ছেলে শেখ শাকিল (৩৯), কুতুবপুরের তোফাজ্জল শেখের ছেলে মো. সাঈদ শেখ (২১), বন্দরের সায়মন খাঁন (৩৫), বাবু (৩০), রবিন (৩০), পলাশ (৪২), মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিশুক (৩৩), ফতুল্লার কুতুবপুরের নাঈম শেখ (২৯) এবং একই এলাকার ইভান (২৬)।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, পর্দার আড়ালে মিছিলটির মূল নেতৃত্বে ছিলেন ফতুল্লার পাগলা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরু ওরফে ল্যাংড়া মীরু, বন্দর উপজেলা ছাত্রলীগের স্বশিক্ষিত সাবেক সভাপতি ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি খান মাসুদ এবং পুলিশের হাতে আটক রাজু ওরফে ষ্ট্যান্ড রাজু ওরফে চাঁদাবাজ রাজু ।
গত কয়েক মাস ধরেই তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে ‘কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ’ নামে একটি গ্রুপ খুলে কর্মীদের সংগঠিত করে আসছিলো। এই গ্রুপে নিয়মিত নির্দেশনা দিতেন মীরু। আর মতবিনিময়ের আয়োজন করতেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অনেকেই।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম কর্মীদের হাতে আসা গ্রুপের স্ক্রিনশট অনুযায়ী দেখা যায়, ১৭ জুলাই ঢাকায় ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন ওসমান পরিবারের এই অনুসারীরা।
এই গ্রুপের সদস্যদের উদ্দেশ্য ছিলো জ্বালাও-পোড়াও, আতঙ্ক তৈরি এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলার ছক তৈরী করা। এমন পরিকল্পনায় একটি মেসেজে লেখা হয়, ‘ঐক্য হও, লড়াই খুব নিকটে। আমরা যাতে কুতুবপুরে একসাথে নামতে পারি, মীরু চাচা যোগাযোগ বাড়ান।’
অপর বার্তায় আহ্বান করা হয়, রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ভার্চুয়াল সভায় যোগ দেওয়ার, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিলো ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলীর।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের এক নেতা পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধে জানায়, মীরু, তার ভাগনে শাকিল ও ভাই আলমগীরসহ কয়েকজন জুরাইন এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অবস্থান করে আসছেন। শনিবার বিকেলে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বৈঠক করেও তারা মিছিলের দিনক্ষণ চূড়ান্তও করেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শরিফুল ইসলাম জানান, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই মীরু পলাতক। তাকে ধরতে আমরা চেষ্টা চারেয় যাচ্ছি।’
অপরদিকে বন্দর থানার ওসি লিয়াকত আলী জানান, ‘মিছিল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ওই রাজুর বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। ঢাকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।’









Discussion about this post