সিদ্ধিরগঞ্জে পাইনাদি মুড়ি ফ্যাক্টরির গলি এবং চুনা ফ্যাক্টরীর মাত্র কয়েক গহের মধ্যে দুটি বসতঘরে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের ৯ সদস্য আহত । এদের মধ্যে নাতি ও নানী মৃত্যু বরণ করেছেন চিকিৎসাধীন অবস্থায়। বাকী ৭ জনের অবস্থাও আশংকাজনক।
ঘটনার সাথে সাথেই স্থানীয় একটি চক্র ফ্রিজের কম্প্রেসারের বিস্ফোরণের কারণে এমন ভয়াবহ দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রচার চালায়। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃংখলা বাহিনীর কোন সুনির্দিষ্ট বক্তব্য না পাওয়ায় প্রায় সকল গণমাধ্যমে ‘ফ্রিজের কম্প্রেসারের বিস্ফোরণে’র এমন ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদ প্রচার হয় ।
এমন দূর্ঘটনার তিন দিন পর নতুন মোড় নিচ্ছে আসলেই কি রয়েছে এর নেপথ্যে। দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বাসায় থাকা ফ্রিজের কম্প্রেসারে শর্টসার্কিটের কথা জানানো হলেও প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের অভিযোগ তিতাসের গ্যাস লিকেজ থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। কারণ হিসেবে এলকাবাসী বলছেন, পাইনাদি মুড়ি ফ্যাক্টরির গলি জাকির খন্দকারের টিনশেড বাড়ির পাশেই রয়েছে বিশাল এক চুনাভাট্টি।
ঘটনাস্থলের মাত্র কয়েক গজের মধ্যে অবৈধ চুনা ফ্যাক্টরী চলতো চোরাই গ্যাস সংযোগ দিয়ে । অপরদিকে সেই পুলিশের সোর্স ও আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয়দানকারী তানজিম কবির সজুর মালিকানাধীন মুড়ি তৈরীর কারখানাও চলছে চোরাই গ্যাস সংযোগ দিয়ে। এমন ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাস্থল বাড়িটিতে কোনো গ্যাসলাইন সংযুক্ত পাওয়া যায়নি।
তিতাস গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস ওপুলিশের বিরুদ্ধে এলাকায় জোড়ালো অভিযোগ উত্থাপিত হলেও অপরদিকে ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তিতাস গ্যাস কিংবা ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় নাই রহস্যজনক কারণে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে তিতাস গ্যাসের সাথে জড়িত চক্র চুনা ভাট্টি ও মুড়ি কারখানার লোকজন ছাড়াও চোরাই গ্যাস সংযোগ নিয়ে এমন অবৈধ কারবার পরিচালনাকারীরা নিয়মিত একদিকে থানায় মাসোয়ারা প্রদান করে অপরদিকে তিতাস গ্যাসের অসাধু কর্তাদের এককালীন মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে সংযোগ নেয়ার পর প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা মাসোয়ারা দিয়ে গ্যাস চুরির মহোৎসব অব্যাহত রেখেছে ।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার সময় (নাসিক) ১নং ওয়ার্ডের রনি সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন জাকির খন্দকারের ভাড়া বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়ে পাশাপাশি দুটি ঘরের একই পরিবারের ৯ সদস্য গুরতর দগ্ধ হন। সেই রাতে ওই বাড়ির অন্যান্য ভাড়াটিয়াসহ প্রতিবেশীরা দগ্ধদের তাৎক্ষণিক স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে আনার পর অবস্থার অবনতি হলে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একদিন পর নাতি ও নানীর মৃত্যু ঘটে।

প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে আদমজী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. মিরণ মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা তিতাসের গ্যাসের কোনো আলামত পাইনি। ঘটনাস্থল ওই বাড়িতে তিতাসের লাইনও যুক্ত দেখি নাই। ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে এমন প্রশ্নে মিরণ মিয়া বলেন, না এখনো হয়নি। তবে আমরা তদন্ত কমিটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন স্যারদের সঙ্গে কথা বলছি।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ হয়েছে। অন্যান্য ঘটনায় আমরা দেখেছি অতি দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন হয়ে থাকে। তারা এখনো কেনো তদন্ত কমিটি করেছে কি না, এটি আমার জানা নেই।
ঘটনা সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থল আমি পরিদর্শন করেছি, বিস্ফোরণ হওয়া বাসা তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করতে পারি নাই। আমরা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে কেন নিবো ? এটা একটা অতি কষ্টের বিষয়, ৯টা মানুষ দগ্ধ। আমাদের কোনো কমতি নেই। মঙ্গলবার ডিসি স্যারের সঙ্গে এ বিষয়ে মিটিং রয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
অভিযোগের জোড়ারো অঙ্গুলী যাদের বিরুদ্ধে সেই নারায়ণগঞ্জ তিতাসের উপ-মহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, বিস্ফোরণ আমাদের তিতাস গ্যাস থেকে হয় নাই। আমাদের টিম এটি পরিদর্শন করে এসেছে। ঘটনা ঘটেছে ফ্রিজ থেকেই ঘটেছে।









Discussion about this post