সিদ্ধিরগঞ্জে চোরাই গ্যাসের কারণে সৃষ্ট হওয়া গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের ৯ সদস্য আহতের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় কলেজ ছাত্রী তানজিলা আক্তার তিসার (১৭) মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে।
আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউ তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে ।
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণে নয় জন দগ্ধের পর হতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তিসাও টানা ছয়দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলো। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে মেয়েটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত তানজিলা আক্তার তিসার শিক্ষক মো. শাহিন জানান, তিসা নারায়ণগঞ্জস্থ সরকারি তোলারাম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ বিষয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সার্জারি চিকিৎসক শাওন বিন রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ বছর বয়সী তিসারও মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে আজ (২৯ আগস্ট) মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো দুই জনে।
গত শুক্রবার (২২ আগস্ট) ভোররাত সাড়ে ৩টায় আচমকা বিস্ফোরণে পাশাপাশি দুটি ঘরের একই পরিবারের ৯ সদস্য দগ্ধ হন। দগ্ধদের সকলকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে ২৪ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত দগ্ধ হওয়া মাত্র এক মাস বয়সী শিশু ইমাম উদ্দিন এবং ২৫ আগস্ট তার নানি তাহেরা আক্তার (৫০) মারা যান। এরপর বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) হাসান গাজী ও তার মেয়ে ছোট্ট শিশু মেয়ে জান্নাত এবং আজ শুক্রবার দুপুরে সালমাও মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন ।
এমন বিস্ফোরণের ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তাৎক্ষণিক ভাবে চুনা ভাট্টি ও মুড়ি কারখানার লোকজন চোরাই গ্যাস বিস্ফোরণের পরিবর্তে ফ্রিজের বিস্ফোরণ বলে প্রচার চালায়। এমন ঘটনা কোন তদন্ত না করেই ফ্রিজের বিস্ফোরণ বলে মন্তব্য করে ফায়ার সার্ভিস ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। একই সাথে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ চোরাই গ্যাসের সংযোগের বিষয়টি অত্যান্ত চতুরতার সাথে এড়িয়ে যাচ্ছে এখনো পর্যন্ত।









Discussion about this post