বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হচ্ছে আজ সোমবার। এ যেন এক আনন্দঘন পরিবেশ বিএনপির জন্য। সারাদেশের ন্যয় নারায়ণগঞ্জে উৎসবমূখর পরিবেশে সকল বিএনপির নেতাকর্মীরা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সড়কে সড়কে র্যালী করে জানান দেন যার যার অবস্থান। ভিন্ন ভিন্নভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি, মহানগর বিএনপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন, নতুন মুখ এবং ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ নিজ নিজ শক্তি প্রদর্শন করে মিছিল র্যালী প্রদর্শণ করলেন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
এ যেন নারায়ণগঞ্জে শো ডাউনের প্রতিযোগিতা করলেন বিএনপি নেতা ও মনোনয়ন প্রত্যাশী বিতর্কিতদের কেউ কেউ।
বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সারাদিনব্যাপী জেলা ও শহরে শো-ডাউন করলেন বিশাল অর্থ ব্যয় করে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে বিএনপির টিকেট পেতে বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরী ও কারখানা থেকে মাথা পিছু নগদ ৫শ টাকায় কয়েক ঘন্টার জন্য লোক ভাড়া করে এই বিশাল বিশাল শো ডাউন করেন।
আজ সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরজুড়ে শো-ডাউন ও হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সরগরম ছিল শহর বন্দরসহ পুরো জেলা জুড়েই ।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার সর্বত্র বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করার নামে মূলতঃ আগামী নির্বাচনের কৌশলগত প্রস্তুতিরও ইঙ্গিত দিয়েছে প্রভাবশালীরা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করার নামে র্যালি ও গণসংযোগের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে আগামী নির্বাচনে কে বেশী শক্তিশালী হতে পারেন। মূলতঃ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি তারেক রহমানের দৃস্টি আকর্ষন করতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করার নামে শোডাউন করেছে অনেকেই। নিজ নিজ নামে ও ছবি যুক্ত টি শার্ট, ক্যাপ, খাবার বিতরণ আবার খাবারের জন্য নগদ অর্থ দিয়ে বিএনপির নেতাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সংঘঠিত করা হয়েছে এই র্যালীকে ঘিরে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনের টিকেট পেতে শক্তি প্রদর্শন করে আলোচিত সমালোচিতরা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আজকের পহেলা সেপ্টেম্বরে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সকালে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র্যালি বের করেন। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত শো-ডাউনে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিকদল ও ছাত্রদলের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।
অপরদিকে নানাভাবে বিতর্কিত ব্যবসাযী ওসমানীয় দালাল হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক আইনমন্ত্রীর ব্যাবসাযী পার্টনার মাসুদুজ্জামান মাসুদ ওরফে মডেল মাসুদের নেতৃত্বে বিশাল র্যালি শহর পদক্ষিণকালে নগরীর সকলের মুখেই ছিলো সমালোচনার সূর। অনেকের প্রশ্ন ছিলো, এই র্যালী কি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জন্য, নাকি টিকেটের জন্য।
আগামী নির্বাচনে টিকেট পেতে বিশাল এই র্যালির মধ্যে বাদ্যযন্ত্র, ঘোড়ার গাড়িতে, নিজের ছবিযুক্ত টি শার্ট, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও মাসুদের ছবি সম্বলিত ফেস্টুন নিয়ে নগরী পদক্ষিণকালে অনকেই বলেছেন, সাবেক আইনমন্ত্রী কারাগারে বন্দি আনিসুল হকের ব্যাবসায়ী পার্টনার এই মডেল মাসুদ আজকের এই র্যালীতে কয়েক কোটি টাকা খরচা করেছেন। আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে আইনমমন্ত্রীর হাজার কোটি টাকায় এখন এই মাসুদ নাানভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন শোডাউন।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে খানপুরের এক প্রবীন বলেন, এই মাসুদ নিজের পরিবারেই বিতর্কিত। নিজ পরিবারের যিনি বিতর্কিত সেই মাসুদ এখন বিএনপি থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ।
মাসুদেুজ্জামানের বিশাল শোডাউনের পাশাপাশি দুপুরে সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও তার ছেলে সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা ধানের শীষ হাতে শো-ডাউন করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আয়োজনে বিকেল ৩টায় সাইনবোর্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় আরেক বিশাল র্যালি। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দীপু, মাশুকুল ইসলাম রাজীব, শরিফুল ইসলাম টুটুল, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বারী ভূইয়া, জেলা বিএনপির সদস্য নাদিম হাসান মিঠু, একরামুল কবীর মামুন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক, সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি সহ সকল নেতারাই আগামী নির্বাচনে নির্বাচনী টিকেট পেতে এই শোডাউন করেছে বলে সর্বত্র ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিকেল ৪টায় নগরীর মন্ডলপাড়া থেকে র্যালি বের করেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও কারামুক্ত জাকির খান। জাকির খান মনোনয়নের জন্য এই র্যালী না করলেও তার প্রভাব সমুন্নত রাখতেই বিশাল এই র্যালী প্রদর্শণ করেন জাকির খান। এমন মন্তব্যও করেন জাকির খানের কয়েকজন ঘনিষ্ঠজন ।









Discussion about this post