মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক সাজ্জাদ হোসেন (২৪) কে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ধামচাপা দিতে সারারাত ও আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় নিহতের বাবা ও পরিবারকে লাখ লাখ টাকায় ম্যানেজ করতে ব্যাপক তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি ও তার নিয়ন্ত্রিত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর শনিবার দিনগত গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আইলপাড়া এলাকায় ঢিল ছোড়ার অপরাধে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক সাজ্জাদ হোসেন হত্যা করা হয়।
মানষিক রোগী সাজ্জাদ হোসেন আইলপাড়া এলাকার কামাল হোসেনের পুত্র।
গত রোববার সন্ধ্যায় মানসিক ভারসাম্যহীন সাজ্জাদ হোসেনের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফনের পর থেকে সারারাত ক্রাউন সিমেন্ট ফ্যাক্টরির লোকজনের সাথে দফায় দফায় আলোচনার পর এই সাজ্জাদ হোসেনের বাবাকে থানায় বসিয়ে রেখে প্রথমে দুই লাখ, এরপর ৫ লাখ এরপর ১০ লাখ পরবর্তীতে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে মানসিক ভারসাম্যহীন সাজ্জাদ হত্যাকান্ডে মীমাংশা করতে চাপ প্রয়োগ করে পুলিশ । কখনো দারোগা, কখনো ওসির বডিগার্ড আবার কখনো ওসি নিজেই আকার ইঙ্গিতে সাজ্জাদ হত্যাকান্ড মীমাংশা করতে মামলা গ্রহণ না করে টালবাহানা করতে থাকে।
টাকার বিনিময়ে এমন মানষিক ভারসাম্যহীন যুবক সাজ্জাদ হত্যাকান্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ঘৃন্য এমন ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃস্টি হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও এলাকবাসীর মাঝে।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের একাধিক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি বর্তমান এই প্রেক্ষাপটে যোগদানের পর থেকে সকল তেলচোর, চুনা ভাট্টি, কয়েল কারখানা, মুড়ি কারখানা, অবৈধ গ্যাস সংযোগসহ সর্বত্র ব্যাপক চাঁদাবাজির জোড়ালো অভিযোগ রয়েছে। এমনকি এই ক্রাউন সিমেন্ট ফ্যাক্টরী থেকে তার নিয়ন্ত্রিত ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা মাসোয়ারাও গ্রহণ কারতেন। আর এই পুরানো সখ্যতার কারণে মাছের বাজারের মতো মানষিক ভারসাম্যহীন যুবক সাজ্জাদ হত্যাকান্ড ধামাচাপা দিতে দরকষাকষি করছেন ওসি ও তার ঘনিষ্ঠ লোকজন।
এরই মধ্যে ক্রাউন সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর লোকজন কোটি টাকার মিশন নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমকেও ম্যানেজ করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় এমন নির্মমভাবে পাগল (মানষিক রোগী) সাজ্জাদকে হত্যার ঘটনায় ক্রাউন সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর ১০ জন কর্মকর্তা – ড্রাইভার ও কর্মচারীকে আটকের পর নানাভাবে ফোনে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন এই ওসি মোহাম্মদ শাহিনূর আলম।
এমন অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলমের মৃুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন ধরেন নাই।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়রা জানায়, সাজ্জাদ মানসিক ভারসাম্যহীন। একা একা ই প্রতিদিন আইলপাড়া এলাকায় হাঁটা-চলা করতেন। শনিবার রাতেও আইলাপাড়ার কাটপট্টি এলাকার ক্রাউন সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর সামনে গিয়ে কোম্পানিটির একটি গাড়িতে ঢিল ছুড়লে তাকে আটকে বেধড়ক মারধর করেন ফ্যাক্টরীর কর্মকর্তারা। অতিরিক্ত মারধরের কারণে সাজ্জাদের মৃত্যু হয়।

অমানবিকভাবে মানষিক রোগী সাজ্জাদকে হত্যা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ক্রাউন সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর চালিয়েছেন স্থানীয়রা। এমন হামলার ঘটনায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের উপরও হামলা চালায়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসানুজ্জামান বলেন, নিহত সাজ্জাদের বাবা এখনো পর্যন্ত অভিযোগ পত্র দাখিল না করায় মামলা দায়ের করা হয় নাই।









Discussion about this post