আড়াইহাজার উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার মাসুদকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ সোনারগাঁও থানাধীন পেরাব এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
পৃথক আরেকটি অভিযানে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় পুলিশ ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িত মেঘনার শীর্ষ নৌ-ডাকাত আক্তারকে কুমিল্লার তিতাস থানা এলাকা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিশেষ নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজীতে অবস্থিত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সোনারগাঁয় উপজেলার কাপড় ব্যবসায়ী রাকিবকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা মামলার প্রধান আসামি শুটার মাসুদ, সোনারগাঁও ও আড়াইহাজারের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময়ে অস্ত্রসহ শোডাউন করে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী এবং নিরীহ জনসাধারণের কাছ থেকে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, লুটপাট, ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতো।
গত রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সোনারগাঁও থানাধীন পেরাব এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাসুদকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ২ বোতল হুইস্কি ও ৫৮ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার মাসুদ আড়াইহাজারের বালিয়াপাড়া এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে।
মাসুদ (২৮) ওরফে শুটার মাসুদ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ১টি হত্যা, ৩টি হত্যাচেষ্টা, ১টি নাশকতা, ১টি ডাকাতি এবং ১টি মাদক মামলাসহ মোট ৭টি মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে পলাতক থাকাবস্থায় নানা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো।
ব্যবসায়ী রাকিব হত্যাকাণ্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ মাসুদ (২৮) ওরফে শুটার মাসুদ ব্যবসায়ী রাকিবকে রাস্তার পাশে ঝোপের মধ্যে ফেলে নিজের কোমর থেকে পিস্তল বের করে পরপর দুটি গুলি করে এবং ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র হাতে বীরদর্পে অপকর্ম চালায়।
অপরদিকে, দীর্ঘদিন ধরে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া এলাকার মেঘনা নদী ও শাখা নদীতে অবৈধ বালুমহাল পরিচালনা ও নৌযানে চাঁদাবাজি করে আসছিল নয়ন, পিয়াস ও আক্তার বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা।
বিগত এক বছরে নদীতে কয়েক দফা ডাকাতিদের গোলাগুলিতে স্থানীয় কয়েকজন নিহত হন এবং তাদের ভয়ে এলাকার শতাধিক পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।
গত ২৫ আগস্ট বিকেলে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানা ও গুয়াগাছিয়া অস্থায়ী ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা মেঘনা নদীতে একটি অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পুলিশের এই অভিযান চলাকালে সরকারি স্পিডবোটযোগে গজারিয়া থানাধীন গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত জামালপুর এলাকার মেঘনা নদীর তীরবর্তী স্থানে পৌঁছামাত্রই পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে নয়ন, পিয়াস এবং গ্রেফতারকৃত আসামি আক্তারের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন ডাকাত সদস্য ৪-৫টি হাইস্পিড ট্রলারযোগে এসে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ ও চারদিক থেকে গুলি বর্ষণ করে।
আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পুলিশের বাধার মুখে পরাজিত হয়ে ডাকাত সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
রোববার রাতে কুমিল্লার তিতাস থানা এলাকা থেকে আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। মেঘনার শীর্ষ নৌ-ডাকাত মোঃ আক্তার সরকার (৫০), গজারিয়া থানাধীন গুয়াগাছিয়া এলাকার সরকারবাড়ির আব্দুল মজিদ সরকারের পুত্র।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানাধীন মোল্লাকান্দি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ক্যাম্পে হামলায় ব্যবহৃত বিশেষ ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ৫টি পিতলের তৈরি নৌকার পাখা, ২টি চুম্বক, ১টি বাইনোকুলার, ১টি ছোরাসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।আক্তার সরকারের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ৪টি হত্যা, ২টি ডাকাতি, ১টি অপহরণ, ১টি চাঁদাবাজি, ৪টি বিস্ফোরক, ১টি মাদক ও ১৪টি হত্যাচেষ্টাসহ মোট ২৭টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত দুর্ধর্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।









Discussion about this post