সিদ্ধিরগঞ্জে ক্রাউন সিমেন্টের রেডিমিক্স কারখানায় ঢিল ছোড়ার অপরাধে মানসিক প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম সাজ্জাদ (২৪) কে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় তিনদিন ব্যাপী টালবাহানার পর শেষ পর্যন্ত ব্যাপক সমালোচনার মুখে নিহতের মা সাজিদা আক্তারকে থানায় ডেকে এনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
মামলায় গ্রেফতারকৃত ১১ আসামীকে এজাহারভূক্ত করে অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে অজ্হাতনামা উল্লেখের পর এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলো : ক্রাউন সিমেন্ট কনক্রিট এন্ড বিল্ডিং প্রোডাক্টস লিঃ এর মিক্সার গাড়ীর চালক মশিউর (২৫), চালকের সহকারী রিয়াদ (১৯), সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট সুপারভাইজার সাইফুল হীরা (৩১), চালক নাছির মোল্ল্যা (৪৪), ল্যাব টেকনিশিয়ান বাবু রাজ বংশী (২৮), মিক্সার গাড়ীর মিস্ত্রী সাব্বির মোল্লা (২৯), সিকিউরিটি গার্ড রেজাউল করিম (৪৬), এনামুল হক (২৪), হামিদুল ইসলাম (৫২), নূরুল ইসলাম (৫৩), এডমিন অফিসার আল মুরাদ (৩৭) সহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন।
পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে ক্রাউন সিমেন্ট কারখানার গ্রেফতারকৃত ১১ জন আসামীকে রক্ষা করতে নানাভাবে কোটি টাকার প্রস্তাব পেয়ে কর্তাদের নির্দেশনা মোতাবেক নিহতের বাবা কামাল হোসেনকে ম্যানেজ করে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশের কয়েকজন সদস্য নিহত প্রতিবন্ধী সাজ্জাদের বাবা কামাল হোসেনকে বোঝাতে সক্ষম হন এই বলে, “আপনার ছেলে তো আর ফিরে আসবে না । আর এই মামলা দিয়ে ক্রাউন সিমেন্টের মালিকের সাথে পেরে উঠবেন না। তাদেরকে (আটককৃতদের) জামিন করাইয়া আনবো। এরপর আর বিচার তো পাইবেন ই না। ক্রাউন সিমেন্টের মালিক একটি প্রভাবশালী রাজনীতিক দলের ডোনার। শত কোটি টাকা দিয়ে রাজনীতিক দলের নেতাগো পালে এই ক্রাউন সিমেন্টের মালিক খবির উদ্দিন মোল্লার ছেলে মিজানুর রহমান মোল্লার ওরফে ডানো। তাদের সাথে পারবেন না। আর মামলা করলে যে সুযোগ সুবিধা পাইবেন তাও আর পাইবেন না। যখন আপনার পাগল পোলা ঢিল দিছে তখন তারে আটকাইয়া ক্রাউন সিমেন্টের মালিকগো ফোন দিছে, আর তখন ফোনেই জানাইয়া দিছে মাইরা ফালাও ওই পোলারে। পরে যা হবে দেখমুনে। ক্রাউন সিমেন্টের মালিক পক্ষের লোকজনের হুকুমেই পিটাইয়া মারছে সাজ্জাদরে। মোবাইল ফোন যাচাই করলেই তো সব ধরা পরে। তাইলে এই মালিক কি আর চাইবো মামলা হউক। তাগো হাজার হাজার কোটি টাকা আছে। তাদের সাথে কে উ কি লড়াই করে পারবো ?“
শনি ও রোববার সারাক্ষণ এমনিভাবে পুলিশের সদস্যরা হত্যাকান্ডে শিকার প্রতিবন্ধী সাজ্জাদের বাবা কামাল হোসেনকে মগজ ধোলাই করার পর কয়েক লাখ টাকা নগদ পেয়ে থানা থেকে পালিয়ে যায় কামাল হোসেন।
এমন ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার পর আটককৃত ১১ জন আসামীকে মোটা অংকের টাকায় পুলিশ আইনের ৫৪ ধারায় সোমবার বিকেলে আদালতে পাঠায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি। পুলিশের এমন কর্মকান্ডে ফুঁসে উঠে সিদ্ধিরগঞ্জবাসী।
প্রতিবন্ধী সাজ্জাদ হত্যাকান্ডের পর দফায় দফায় পুলিশ ও ক্রাউন সিমেন্টের হত্যাকারীদের পক্ষে নানা দৌড়ঝাপে ফুঁসে উঠা সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর এমন বিষয়টি অনুধাবন করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ সোমবার রাতেই নিহতের মা সাজিদা আক্তার ডেকে এনে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো ক্রাউন সিমেন্টর কর্মকর্তা ও ড্রাইভারদের আসামাী করা হয়।
এ সময় নিহত প্রতিবন্ধী সাজ্জাদ মা সাজিদা আক্তার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কান্নারত অবস্থায় বলেন, “আমার ছেলে পাগল, এইডা সবাই জানতো। আমি দূরে থাকলেও খোঁজ নিতাম। আমার এই পাগল ছেলেই আমায় ‘মা’ বলে ডাক দিতো। কিন্তু কাঁচ ভাঙার জন্য ওকে পিটিয়ে মেরে ফেললো ! মানুষ কি এমনে মানুষরে মারতে পারে ? আমি এই পিটিয়ে মারার বিচার চাইতেই থানায় আইছি। আমি টাকা চাই না, আমি বিচার চাই, আমার আর কিছু লাগবে না।”









Discussion about this post