কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাসে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ফতুল্লার লিংক সড়কে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত সদস্যরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অন্তত ১৫ জন যাত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ফতুল্লার মাহমুদপুর এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে এই দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটে।
ডাকাতির শিকার যাত্রীরা জানান, জিএস পরিবহণের বাস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৬৮৯৫) কুষ্টিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে গতকাল বুধবার রাতে ছেড়ে আসে।
আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টায় ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় পৌছালে চালক যাত্রী নামানোর জন্য সাইনবোর্ড মোড়ে গাড়ি না রেখে কিছুটা দূরে মাহমুদপুর এলাকায় জেলা আঞ্চলিক পাসপোর্টের কাছে থামানোর পর কয়েকজন যাত্রী নামার সময় একদল যুবক নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে গাড়িতে উঠে বলেন যাত্রীদের কাছে মাদক আছে তল্লাশী করা হবে। আর তখন চালক ধীরে ধীরে গাড়ি চালাচ্ছেন।
তখন ডিবি পরিচয় দেয়া যুবকরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গাড়ীর যাত্রী বোন মুন্নি আক্তার ও তার বোন আফরোজা আক্তারের পরিহিত স্বর্ণসহ নগদ টাকা, যাত্রী রুবেল হোসেনের কাছ থেকে নগদ টাকরসহ অন্যান্য যাত্রীর কাছ থেকে টাকা পয়সা লুটে নেয়। এরপর ডাকাত দল জালকুড়ি এলাকায় নেমে গাড়ি ছেড়ে দেয়। ডাকাত দলের সদস্যরা লুটপাট করে নেমে যাওয়ার পর যাত্রীরা ডাক চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ফতুল্লা থানায় খবর দেয়।
এ ঘটনায় যাত্রীরা আরও জানান, বাস চালক ও হেলপারদের আচরণ সন্দেহজনক হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
ডাকাতির ঘটনার সম্পর্কে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, ঠিক এ মুহূর্তে বলতে পারছি না এটি ছিনতাই না ডাকাতি। তবে বাস চালক আরিফুল ইসলাম (৫০) দুই হেলপাড় আবু সাইদ (৩৫) ও শাওনকে (১৫) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদি চালক হেলপারের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাহলে তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে।
এমন ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের কারণে ফতুল্লার লিংক রোড সাইনবোর্ড থেকে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়সহ চাষাড়া চত্তর পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ৮ কিলোমিটার সড়কে সন্ধ্যার পর থেকে মোটরসাইকেলসহ নানাভাবে ছিনতাইকারীরা বেপরোয়াভাবে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
লিংক সড়কের স্থানে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের হাত থেকে দিন মজুর, মাছ তরকারি বিক্রেতারাও বাদ যায় না। লিংক রোডের এই ৮ কিলোমিটারের মধ্যে কথিত বাউল গানের ক্লাব রয়েছে ৮টি। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই সারারাত বাউল ক্লাবগুলিতে ক্লাবে উচ্চ শব্দের সাউন্ডবক্স দিয়ে গান-বাজনা চলে। আর প্রতিটি ক্লাবেই প্রাইভেটকার মোটরসাইকেল ইজিবাইক দিয়ে শতশত লোক এসে জমায়েত থাকে সারারাতব্যাপী।
এ বিষয়ে অনেকের অভিযোগ বাঊল গাণের এই ক্লাবগুলোতেই ছিনতাইকারী, ডাকাত ও মাদক কারবারিরা গানের শ্রোতা হয়ে অবস্থান নেয়। এরপর সুযোগ বুঝে অপরাধ কার্যক্রম চালায়। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে একাধিকবার প্রতিবাদ করেও গানের ক্লাবগুলো বন্ধ করা সম্ভব হয় নাই।
গানের ক্লাবগুলো বন্ধ করার পাশাপাশি সাইনবোর্ড থেকে চাষাড়া পর্যন্ত চেকপোস্ট স্থাপিত হলে লিংক রোড থেকে ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসায়ীসহ সকল অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।









Discussion about this post