‘দেশ স্বাধীনতার আগে বা পরে কখনোই কবর থেকে মরদেহ তুলে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেনি। গত শুক্রবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ‘নুরাল পাগলা’র ঘটনা আমাদের এ দেশের ইতিহাসের বর্বরতম ঘটনা।’
নারায়ণগঞ্জ ‘সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা। বুধবার ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ‘সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরীনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন এর উপদেষ্টা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি।
এ সময় বক্তাগণ বলেন, ‘ধর্ম রক্ষার নামে ভিন্ন মত, আকিদার মানুষের ওপর এমন বর্বরতা মানবতা এবং ইসলামবিরোধী।’
রফিউর রাব্বি বলেন, বুখারী শরীফের ৩ হাজার ১৬ নম্বর হাদিসে রয়েছে, এক দিন নবী (সা.) সাহাবাদের নিয়ে বসেছিলেন। ওই সময় রাস্তা দিয়ে একটি লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো। নবী (সা.) উঠে দাঁড়িয়ে গেলেন। সাহাবারা বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) এটা একটা ইহুদির লাশ। উত্তরে নবী (সা.) বললেন, সে আদম সন্তান, মানুষ ছিল, দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে; তার সঙ্গে কোনো দুশমনি নেই …!
তিনি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো বলেন, নবী (সা.) বললেন, তোমরা শত্রুর লাশও বিকৃত করো না এবং তাদেরকে আগুন দিয়ে শাস্তি দিও না। কারণ, আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। অথচ এখন ইমান আকিদা রক্ষার নামে, ধর্মের নামে দেশে বর্বরতা চলছে।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাজপথে মানুষ নামলেও বৈষম্য কমেনি, জনগণের আকাঙ্খার বাস্তবায়ন ঘটেনি। গত এক বছরে মব তৈরি করে শতাধিক মাজার-খানকায় হামলা হয়েছে, বাউলদের মেলা-উৎসবে, মসজিদে-মন্দিরে, নারীদের উপরে হামলা হয়েছে। এ হেন বর্বরতা নিয়ন্ত্রণে সরকার নির্লজ্জভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা মব তৈরির বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি অ্যডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল, সিপিবির জেলা সভাপতি শীবনাথ চক্রবর্তী, বাসদের জেলা সদস্যসচিব আবু নাইম খান বিপ্লব, ন্যাপ জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, বাউল সংগঠন সম্মিলিত জোটের জেলা সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ বাঁধন, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান, সামাজিক সংগঠন সমমনার উপদেষ্টা দুলাল সাহা ও শিল্পী অমল আকাশসহ অন্যান্যদের উপস্থিতিতে রফিউর রাব্বি আরো বলেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশে এক শ্রেণির মৌলবাদীগোষ্ঠী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে, সব ধর্মের, মত-পথের মানুষের অধিকার নিশ্চিৎ করাজ জন্য, দেশকে মৌলবাদীদের অভয়ারণ বানানোর জন্য নয়।









Discussion about this post