চাটুকারিতা বা তৈলমর্দন কোন অবস্থাতেই মঙ্গলজনক কিছু বয়ে আনে না তার প্রমাণ হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা অ্যাডবোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। উদীয়মান আইনজীবী হিসেবে আশির দশকে রাজপথে ধর্ষক মুকুলের বিচারের দাবীতে মিছিল করে এবং ভ্যানগাড়ী রিক্সাচলকদের পক্ষে আন্দোলনে নেমে আলোচনায় আসেন তৈমূর। এরপর গণডাক পত্রিকার নানা প্রচার প্রচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেন তৈমূর আলম খন্দকার। সেই সময় শহরের পুরান কোর্ট এলাকায় তৈমূর চেম্বারে তৈলবাজদের ভিড় ছিলো লক্ষ্যনীয়। সেই তৈমূর এবার ছিটকে পড়েছেন অজানাে গন্তব্যে।
সেই অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে এখন আর দেখা না গেলেও নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার রাজনীতি ও আদালতপাড়ার সকল কিছুর নিয়ন্ত্রণ করছেন তারই অনুসারীরা। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অসংখ্য । মামলা বাণিজ্য থেকে শুরু করে নগরীর নানা মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ইন্টারনেট ও ডিস রাইন নিয়ন্ত্রণও করছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার বাহিরের ব্যক্তিরা।
যারা এক সময় নারায়ণগঞ্জের ব্যক্তিদের চাটুকারিতা ও তেলবাজি করে তাদের কাধে ভর করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন সেইসব ব্যক্তিরা এখন নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। এখনো তাদের নিজস্ব হোল্ডিং নম্বর না থাকলেও নারায়ণগঞ্জের আদালতপাড়ার সকল কিছুর উপর ছড়ি ঘুরাচ্ছেন তারা। স্থানীয়দের নানাভাবে ষড়যন্ত্রের ফাঁদে ফেলে তারা নারায়ণগঞ্জের মানুষের বুকে ছড়ি ঘুরানোর চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে প্রকাশ্যেই কোন কোন আইনজীবীগণ গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেছেন, “আদালত পাড়ায় রয়েছে টর্চারসেল !”
আদালতপাড়ার একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সাবেক নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার তেলবাজি ও চাটুকারিতা খুব বেশি পছন্দ করতেন। তৈমূর আলমের চাটুকারিতা ও তেলবাজি করে তৈমূরের আলমের মন জয় করে নারায়ণগঞ্জে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বিএনপির চিহ্নিত কয়েকজন বহিরাগত নেতা। যাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ থাকার পরও সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের সাথে মিলিত হয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী, চাকরীজীবী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের মামলায় হয়রানী করে কোটি কোট টাকার বাণিজ্য করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বহিরাগত ( যাদের এই নগরীতে কোন স্থায়ী বসতি নাই) কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে (পুলিশ গোপন প্রতিবেদন (pro) secret intelligence report) প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের সাথে মিলেমিশে ব্যাপক লুটপাট দূর্ণীতির প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে অসংখ্য।
লুটপাট কারী এমন আইনজীবীদের অনেককেই তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির গুরত্বপূর্ণ অবস্থানে অঠিষ্টিত করেছেন । বানিয়েছিলেন নেতা। সেই তৈমূর আলমকে বর্তমানে ওই তেলবাজ চক্র ভুল করেও মনে করেন না। আদালতপাড়ায় একাধিকবার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বানানো বর্তমানের এক তুখোড় নেতা তৈমূর আলমকে বিগত সময়ে পল্টি দিয়ে সমিতির গুরুমারা শীষ্য হিসেবে সভাপতি আসন দখলও করেন।
কারাগারের ভেতরে থাকবস্থায় জেলবন্দিকে আইন বিষয়ে পরীক্ষা দেয়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন তৈমূর আলম।একই সাথে অনেকেই বিএনপির রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তৈমূর আলম।
আইন পেশার জীবনে তৈমূর আলমের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে এসে প্রতিষ্ঠিত হতে বাহিরের জেলা থেকে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এসকল তেলবাজ সুবিধাবাধীদের কয়েকজন। বর্তমানে কয়েকজন বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকারকে নিয়ে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে নানা ধরণের অশ্রাভ্য ভাষায় গালিগালাজসহ কঠোর সমালোচনা করেন।
অথচ এই চক্রের সকলেই ওসমান পরিবারের সাথে আতাঁত করে ওসমান পরিবারের উচ্ছিষ্ঠ গ্রহণ করে নানাভাবে সমালোচিত হচ্ছেন দীর্ঘদিন যাবৎ। অথচ এক সময় তৈমূর আলমের চেম্বারে থেকে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন ওই ওসমানীয় উচ্ছিষ্ঠভোগিদের অনেকেই।
যাদের সকলেই বিএনপির রাজনীতিতেও প্রতিষ্ঠিত হন আলোচিত সমালোচিত তৈমূর আলমের মাধ্যমে। অথচ সেই তৈমূল আলম খন্দকার নিজের ভুল আর তেলবাজদের প্ররোচনায় বিএনপির রাজনীতি করে ওসমানীয় দুর্গন্ধে নিজেকে বিলিনি করে দিয়ে নিশেষ হয়েছেন নিজের অজান্তেই । আর ওই চাটুকার চক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিলে এখন মহাব্যস্ত।









Discussion about this post