আড়াইহাজারে ৭০ বছর ধরে বেদখল থাকা ৬০ কোটি টাকা মূল্যের ২৩ একর জমি উদ্ধার করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া। এই জমি দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রানহানীর আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক জমিটি উদ্ধার করেন।
স্থানীয় ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার, কানুনগো ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) প্রতিবেদন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সুপারিশ যাচাই করে জেলা প্রশাসক জমিটিকে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ অনুযায়ী খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধারের পর এই জমিটিতে দৃষ্টিনন্দন ইকোপার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
এলাকাবাসী জানায়, আড়াইহাজারের বিশনন্দী ফেরিঘাট সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের পাশে এই জমি ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর হিন্দু মালিকদের ভারতে চলে যাওয়ার কারণে ৭০ বছর ধরে বেদখল অবস্থায় ছিলো। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর লোকজন ২০২০ সালে কৃষকদের কাছ থেকে জমি দখল করে অবৈধ বালুর ব্যবসা করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও জমি দখল করে। এমন ঘটনায় এলাকায় ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রানহানীর আশঙ্কা দেখা দেয় সম্প্রতি।
এমন খবরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা কঠোর নির্দেশ দেন আড়াইহাজার উপজেলা প্রশাসনকে, যেন এক ইঞ্চি জমিও আর বেদখল না থাকে। জমিটি মালিকবিহীন হিসেবে খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দীন জানান, যারা দাবিদার আছেন তাদের কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরে শুনানিতে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, সবাই ভুয়া দাবিদার। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করা হয়েছে।
আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস কে মো. মামুনুর রশীদ দ্রুত এ সংক্রান্ত ফাইল জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর পর জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার ( ১৬ সেপ্টেম্বর) নথিতে স্বাক্ষর করে জমিটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
এমন ঘটনায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, জমিটিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি দৃষ্টিনন্দন ইকোপার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভবিষ্যতে জমিটি আর বেদখল হবে না। একইসাথে স্থানীয়রা পর্যটন সুবিধা থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।
বিশনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আব্দুল হামিদ ও ফেরিঘাট জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মতিউর রহমান এই জমির বিষয়ে বলেন, আমার দাদা-বাবা এই জমিতে চাষবাদ করতেন। কিন্তু ২০২০ সালে সাবেক এমপি নজরুল ইসলামের লোকজন আমাদের কাছ থেকে জমিটি দখল করে নেয়। এই জমিতে সরকার যদি ইকোপার্ক করে, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আর যেন প্রভাবশালীরা দখল করতে না পারে এটাই শুধু চাই।









Discussion about this post