আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে নারায়ণগঞ্জের কুখ্যাত গডফাদারখ্যাত পলাতক শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান ছাড়াও কারাগারে বন্দি ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম মন্ত্রী আনিসুল হকের ব্যবসায়ী পার্টনার সেই মাসুদুজ্জামান (যাকে সকলেই চিনেন মডেল মাসুদ হিসেবে) এবার সেই খোলসের আবরণ ফেলে বিএনপির পতাকাতলে উপস্থিত হতে ঘোষণা দিয়েছেন।
যাকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে সর্বত্র।
বিএনপির অনেক নেতাদেরকে নিজের করায়ত্ত করতে প্রতি মাসে বেতনের মতো করে বিশাল অর্থ দিয়ে লালন পালন করা ছাড়াও সভা সমাবেশ ও মিছিল মিটিং করতে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করেছেন।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির টিকেটে এমপি হতে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করার ব্রত নিয়ে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের অন্যতম এই দোসর। তার হাতে রয়েছে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের হাজার কোটি টাকা। সেই টাকায় বিএনপির টপ টু বটম কিনে নিয়ে এমপি হওয়ার চরম খায়েশ থেকে আজ সোমবার ২২ সেপ্টেম্বর বিএনপির রাজনৈতিক দলে নাম লেখাবেন।
এমন কঠোর মন্তব্য পুরো নগরীতে ঘুরপাক খাচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর আওয়ামী লীগের খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে এসে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের দায়িত্ব নেন নাটকীয়ভাবে। এরপর চাঁদা দেয়া ও ফের ফেরত আনার বিশাল বিশাল নাটক করে আরেক বিতর্কিত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাতেম কে নিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধাচারণ করে চেয়ার পোক্ত করার চেষ্টা চালায়।
এরপর বিএনপির কিছু উচ্ছিষ্ট ভোগী নেতা ও কর্মীদের একটি অংশকে নিয়মিত অর্থ সহায়তা দিয়ে মাঠে নামিয়ে নিজেকে জানান দেওয়ার চেষ্টা করেন মাসুদুজ্জামান।
সেই মাসুদুজ্জামান অর্থাৎ মডেল গ্রুপের এ কর্ণধার এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে নাম লেখাতে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে মাসুদুজ্জামান বিএনপির লোক পরিচয় দিলেও সেটা ছিল নিছক রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি যাকে নগরবাসী আওয়ামী লীগের দোসর বা ফটকাবাজি হিসেবে মন্তব্য করছেন।
কারণ এই মডেল মাসুদের নাম বিএনপির কোথাও ছিলেন না। অথচ ৫ আগষ্টের পর ব্যবহার করতেন বিএনপির নাম। আর এরপর থেকে বিএনপি দলীয় প্রধানদের ছবিব্যবহার করতেন নিজের ব্যানার ফ্যাস্টুনের সাথে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মন্ত্রী আনিসুল হকের হাত ধরেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি বেসরকারী ব্যাংক।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতা ‘মাসুদ বিএনপির কেউ না’ এমন করায় বিতর্ক সৃষ্টি হলে আজ সোমবার ২২ সেপ্টেম্বর সকালে পল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদের কাছ থেকে ফরম নিয়ে আনুষ্ঠানিক নাম লেখাবেন দলে।
যা ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, তাহলে এতোদিন তিনি কি করেছেন ? তাইলে কি সেই আনিসুল হকের অন্যতম পার্টনার মাসুদুজ্জামান এখন পল্টি দিয়ে বিএনপির দরবারে হাজির হচ্ছেন ?
এরই মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, ‘এবার নমিনেশন পাবেন মাঠের লোক সুতরাং মধুখোর শিল্পপতিরা নয়। তারা মধু খাওয়ার জন্য ওই সালমান এফ রহমানের মতন হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেয়ার জন্য বিএনপিতে আসতে চায়। তারা কেন আসতেছে জানেন কারণ এখন হাওয়াটা বিএনপির পক্ষে। যদি টাকা মার্কা ছিটাইয়া নমিনেশন আইনা এমপি হয়ে যাইতে পারে, তাহলে তারা সালমানের মতন বড় লোক হতে পারে।’
মাসুদুজ্জামান মাসুদকে উদ্দেশ্য করে সাখাওয়াত হোসেন খান আরো বলেন, ‘আপনি মেড ইন নারায়ণগঞ্জ না, আপনি মেড ইন আওয়ামী লীগ। আপনি মেড ইন সেলিম ওসমান, কারণ আপনি সেলিম ওসমানের দোসর ছিলেন। আপনি মেড ইন আনিসুল হক। আপনার পিতা আওয়ামী লীগ ছিল এটা নারায়ণগঞ্জের সবাই জানে। আসলে উনি তো বিএনপি’রই কেউ না। তিনি এখনো পর্যন্ত বিএনপির সদস্য হতে পারে নাই। আপনি বিগত ১৫টি বছর কোথায় ছিলেন? আপনাকে তো রাজপথে দেখা যায়নি। এখন আপনি বসন্তের কোকিল হয়ে মধু আহরণ করতে এসেছেন।’
বর্তমানে ওসমানদের বিরুদ্ধে এখন কথা বললেও উপ নির্বাচনে সেলিম ওসমানের পক্ষেই তিনি ভোট চান স্থানীয় কয়েকজন কাউন্সিলরদের সাথে নিয়ে। বর্তমানে কয়েকজন সাবেক কাউন্সিলরদের বিশাল অর্থায়নে ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে আগামী নির্বাচনের কলাকৌশল।
বিগত সময়ে তল্লা এলাকাতে ১১নং ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত প্রচারণামূলক সভায় মাসুদ ও সেলিম ওসমান পাশাপাশি বসে বক্তব্য দিতে দিয়ে সেলিম ওসমানের পক্ষেই ভোট প্রার্থনা করেন এই বিতর্কিত মাসুদুজ্জামান।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে হাজীগঞ্জ এলাকার একটি জমি উচ্ছেদ করতে গিয়েও ওসমানীয় সহযোগিতা নেন এই মডেল মাসুদ।
এ বিষয়ে নগরীর অনেকেই বলেন, মাসুদুজ্জামান একজন ধূর্ত ব্যবসায়ী। তিনি নিজের স্বার্থটাই খুব ভালো বুঝেন। স্বার্থের কারনে পরিবারের অনেককেই ছুড়ে ফেলে দিয়েছে অনেক দূরে। তার পরিবারে খোজ নিলে এবং বিগত নাসিক নির্বাচনের হিসেব কষলেই বেড়িয়ে আসবে এই মাসুদুজ্জামান ওরফে মডেল মাসুদ কতটা ঠান্ডা মাথার খেলোয়াড়। তিনি এখন আওয়ামী লীগের মন্ত্রীর টাকায় নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর এমপি হতে চাইছেন। আর এরজন্য বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া কিছু নেতা কাউন্সিলরকে কোটি কোটি টাকায় করায়ত্ত করেছে আগামী নির্বাচনকে টার্গেট করে। আর তার জন্যই টার্গেট করে খেলা খেলতে মাঠে নেমেছেন।









Discussion about this post