লাশ, লাশ আর লাশ। প্রায় প্রতিদিন ই নারায়ণগঞ্জ জেলার কোন না কোন থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করতেই ব্যস্ত থাকেন। লাশের মিছিল যেন থামছেই না। আজ বুধবার ২৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লার পৃথক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ছাড়াও বেপরোয়া গতির অটোরিকশার ধাক্কায় অপর শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্র আব্দুল্লাহ (৪) ও সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেনের কন্যা সাইফা আক্তার (৮)।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার দারোগা ইয়াসিন আরাফাত বলেন, বুধবার সকাল আনুমানিক ৮টায় ধর্মগঞ্জ এলাকার বাসার কাছেই একটি দোকানে যাবার পথে দ্রুতগামী একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় শিশু আব্দুল্লাহ ছিটকে পড়লে স্থানীয় লোকজন ও ইজিবাইক চালক নিজেই শিশুটিকে শহরের খানপুরের নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আনার পর চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। অটোরিকশা চালক সাগরকে (৩০) আটক করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান দারোগা ইয়াসিন আরাফাত ।
অপরদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকার একটি পুকুর থেকে সাইফার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাচপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশনের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাড়ি পাশে একটি পুকুরে দুই শিশু গোসল করতে এসে সাতার না জানার কারণে দুই শিশুই পানিতে ডুবে যায়। একজন শিশুকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করতে পারলেও অপরজন পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দুপুর পৌনে দুইটার দিকে সাইফা আক্তার নামক ওই শিশুকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখিত শিশু ছাড়াও আজ বুধবার দুপুরে ফতুল্লার যমুনা অয়েল কোম্পানির ঘাটে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত ইদ্রিস আলী ব্যাপারী (৪৫) বছর বয়সী এর বাড়ি ঢাকার শ্যামপুর তেলঘাট এলাকায়।পেশায় নৌকার মাঝি ইদ্রিস আলী গত ২২ সেপ্টেম্বর নৌকা থেকে পানিতে পরে নিখোঁজ হন। দুইদিন পর তার মরদেহটি কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেসে উঠেছে বলে জানান পাগলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দারোগা জাহাঙ্গীর হোসেন।
এমন একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের পর আজ বুধবার বারোটার দিকে ফতুল্লা থানা পুলিশের বেতারে সাংবাদ আসে ফতুল্লার হাজীগঞ্জ এলাকায় ঋতু আক্তার (২২) নামক এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত এই ঋতু আক্তার ওই এলাকার কাশেম মিয়ার কন্যা।
নিহত ঋতুর বাবার কাশেমের অভিযোগ, “আজ সকালে মেয়ের স্বামী মাসুম মিয়া মোবাইলে জানায় ঋতু আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে আমরা বাড়িতে এসে দেখি ঘরে তালা দেওয়া আর আর মাসুমও কোথাও নেই। এরপরে পুলিশে খবর দেই।”
এই বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার দারোগা সঞ্জীব জোয়ার্দ্দার বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়ানতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ প্রতিবেদন অনুযায়ী বলা যাবে।
নিহত ঋতুর স্বামী মাসুম মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে জানান ফতুল্লা থানার পুলিশ কর্মকর্তা সঞ্জিব জোয়ার্দ্দার।









Discussion about this post