ফতুল্লার একটি গার্মেন্টসের মালবাহী কাভার্ড ভ্যান ছিনতাই করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
আজ বুধবার (১ অক্টোবর) ফতুল্লার বিসিক ক্রোনী অ্যাপারেলস লিমিটেডের সিইও মো. হুমায়ুন কবির ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
তবে এ ঘটনায় ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, নেপথ্যে ভিন্ন কিছু রহস্য লুকিয়ে রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখাও জরুরি। কারণ ক্রোনী গার্মেন্টসের কর্ণধার পলাতক আসলাম সানী ভিন্ন কোন নাটকও মঞ্চায়ন করতে পারে এই লুটপাটের অভিযোগের নেপথ্যে।
হুমায়ুন কবিরের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে কম্পানীর একটি কভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৯৬০৬) অবন্তি কালার টেক্স লিমিটেডে পণ্য পরিবহনের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর রাজন (৪৫) ও ইকবাল কবির (৪৮) ও তাদের নেতৃত্বে আরো ১৫-২০ জন লোক ট্রাকটি আটকে দেয়।
উল্লেখিত বিবাদিরা নিজেদের বিএনপি কর্মী পরিচয় দিয়ে চালক আবুকে গালিগাল করে এবং ট্রাকটি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়।
এমন ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে বিবাদীরা মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার আশ্বাস দেয় এবং ট্রাক থানায় হাজির করার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে পুলিশ ট্রাকের চাবি ও কাগজপত্র তাদের কাছে বুঝিয়ে দেয়।
এমন ঘটনার পরদিন আজ বুধবার ভোরে জানা যায়, আটক ট্রাকটি অন্যত্র নিয়ে গিয়ে ট্রাকে থাকা আনুমানিক ১০ লাখ টাকার এসএস স্টিল পণ্য লুট করা হয়েছে। পরে খালি ট্রাকটি ফতুল্লার কাশিপুর হাটখোলা স্কুলের সামনে ফেলে রাখা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির তার অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, ট্রাক ও মালামালের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা কর্নপাত না করে উল্টো বিভিন্ন হুমকি ধমকি দেয়।
স্থানীয় বিএনপির নেতারা জানান, থানার এজহারে অভিযুক্ত রাজন ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইকবাল কবির ফতুল্লার কাশিপুর ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা রাজন বলেন, ‘আমরা রাত ১২টায় গাড়িটিকে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মীর কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি।
পরে কে বা কাহারা কী করেছে আমরা জানি না।’
একই কথা বলেন এজাহারে অভিযুক্ত ২ নং বিবাদী কাশিপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইকবাল কবির।
তারা আরো জানান, এলাকার কিছু ছেলে গাড়িটি আটক করেছিল আমরা মীমাংসার জন্য গিয়েছিলাম।
ঘটনার সম্পর্কে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আবুল বাশার জানান, ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, প্রতিষ্ঠানের ট্রাকটি উদ্ধারের চেষ্টা করেছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা ঘটনাস্থলে ছিলো। তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে চোরের উপর ডাকাতি এমন কিছু একটা হয়েছে। বন্ধ ক্রোনী গার্মেন্টসের মালামাল বের করার পর কাশিপুরের লোকজন আটক করার পর বাবুরাইলের একটি চক্র তা ছিনিয়ে নেয়। এমন প্রাথমিক তথ্যে তদন্ত চলছে।









Discussion about this post