নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আনিকা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। যিনি বাউল শিল্পী হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত রয়েছে।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় স্বামী হাবিব আনিকাকে সাইনবোর্ড এলাকার প্রো অ্যাকটিভ হাসপাতালে নিয়ে আনার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে পুলিশে খবর দেয়।
নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহতের পরিবারের দাবি, আনিকা স্বামী হাবিবুর রহমানের নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন। তাদের অভিযোগ—এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আনিকার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী হাবিবুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত আনিকার বাড়ি মাদারীপুর জেলার মোস্তফাপুর গ্রামে।
আনিকার বাবা জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেন আনিকা ও হাবিবুর রহমান। তাদের সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে। সম্প্রতি মালা নামে এক বাউল নারী শিল্পিকে হাবিবুর বিয়ে করেন। হাবিবুরের কাছে সেই বিয়ের সত্যতা জানার চেষ্টা করেন অনিকা। এ নিয়ে হাবিবুর ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর চলে যায়।
এরপর চাঁদপুর থেকে অনিকাকে তালাকের প্রথম নোটিশ দেয় হাবিবুর। অনিকা সেই নোটিশ নিয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার দিলে হাবিবুর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে স্বর্না নামে আরেকজন নারী বাউল শিল্পিকে দিয়ে অনিকাকে হত্যার চেষ্টা চালায়। বৃহস্পতিবার রাতেও অনিকার বাসায় গিয়ে হামলা চালায় স্বর্না। বেধরক মারধর করলে আনিকার কান্নাকাটিতে আশপাশের লোকজন এসে অনিকাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাও করায়।
এদিকে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।









Discussion about this post