নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকারী ও খুচরা বাজার হিসেবে পরিচিত দিগু বাবুর বাজারে সবজির দাম এখনো আকাশছোঁয়া। এক কেজি করে বেগুন, করলা, চিচিঙ্গা ও পেঁপে কিনতেই খরচ হচ্ছে ৩২০ টাকা। সরবরাহ ঘাটতি ও বৃষ্টির প্রভাবে সবজির দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।
সদর উপজেলার শিবু মার্কেটে সবজি কিনতে আসা আব্দুল জব্বার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাজারে মোটামুটি সব জিনিসের দামই বেশি। আগে এক হাজার টাকার বাজার করলে এক সপ্তাহ চলে যেত। এখন দেড় হাজার টাকায়ও সপ্তাহ পার হতে চায় না। চার ধরণের সবজি কিনতেই ৩০০ টাকা শেষ হয়ে গেল।’
🌿 সবজির বাজারে আগুন
বিক্রেতা ও ক্রেতা—দু’পক্ষই বলছেন, বৃষ্টি ও দুর্গাপূজার ছুটির কারণে গত দুই সপ্তাহে সরবরাহ কমে গেছে। ফলে বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ২০–৩০ টাকা বেড়েছে।
বর্তমানে বাজারে :
বেগুনের কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা (তাল বেগুন ২০০–২২০ টাকা)
করলা ৮০–১০০ টাকা
চিচিঙ্গা ৬০–৮০ টাকা
পেঁপে ২০–৩০ টাকা
টমেটো ১২০ টাকা
শশা ১০০-১২০ টাকা
বিক্রেতারা জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে গ্রামের হাটবাজারে সবজি তোলা ও পরিবহনে সমস্যা হয়েছে। পাশাপাশি ভারত থেকে মরিচ ও টমেটো আমদানিও কমেছে, যার ফলে দাম বেড়েছে।
🌶️ মরিচের দাম অর্ধেক কমলেও এখনো বেশি
দুই সপ্তাহ আগে কাঁচা মরিচের কেজি ১৮০–২০০ টাকা থাকলেও বৃষ্টির পর তা বেড়ে ৪০০ টাকায় ওঠে। পরে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমে এসেছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে মরিচের কেজি ২০০–২২০ টাকা, আর পাড়া-মহল্লার দোকানে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা দরে।
🛢️ তেল ও পেঁয়াজেও বাড়তি চাপ
সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ২ টাকা বেড়ে ১৭২–১৮০ টাকা হয়েছে। পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজি ৭০–৭৫ টাকা।
🍗 মাছ-মুরগিতেও আগুন
বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা, আর সোনালি মুরগি ২৮০–৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক ডজন ডিমের দাম ১৪০ টাকা।
বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে—
তেলাপিয়া ২২০–৩০০ টাকা
পাঙাশ ১৮০–২৫০ টাকা
কই ২৪০–২৮০ টাকা
রুই ৩৫০–৪০০ টাকা
🍚 চাল-ডালও সহজলভ্য নয়
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের মধ্যে ডায়মন্ড, মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ড বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০ টাকায়, রশিদ ৭২ ও মোজাম্মেল মিনিকেট ৮৫ টাকা দরে।
💬 বিক্রেতাদের দাবি ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকারপাইকারী বাজারের বিক্রেতা আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে শীতের সবজি বাজারে আসলে দাম কিছুটা কমবে। এখন সরবরাহ কম, তাই দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না।’
তবে ক্রেতাদের আশা—আগামী মাসে নতুন সবজির মৌসুম শুরু হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বাজারে।
সংক্ষিপ্ত উপসংহার:
বৃষ্টি, সরবরাহ ঘাটতি ও পরিবহন ব্যয়ের চাপ মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এখনো অস্থির। একদিকে সবজির দাম চড়া, অন্যদিকে তেল-পেঁয়াজ ও মুরগির দামও ক্রেতাদের নাভিশ্বাস তুলেছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—সরকার দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।









Discussion about this post