নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ॥
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে শুরু হয়েছে উত্তাপ। একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে মুখর হচ্ছেন নেতারা। সর্বশেষ মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান মনোনয়ন প্রত্যাশী মাসুদুজ্জামানের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন।
শনিবার (১৩ অক্টোবর) রাতে মুঠোফোনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত গণমাধ্যমকে বলেন, “এ ধরনের বক্তব্য দাম্ভিকতাপূর্ণ। কোনো রাজনৈতিক নেতা অন্য নেতাকে নিয়ে এভাবে কথা বলতে পারেন না। উনার বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে, তিনি অশিক্ষিত মানুষের মতো আচরণ করেছেন। উনার শিক্ষাগত যোগ্যতা কী, আমি জানি না; তবে উনার কথাবার্তা প্রমাণ করে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা খুবই কম।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক। এই পদ আমি এমনিই পাইনি—অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে, আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এসেছি। সিটি করপোরেশনের মেয়র পদেও প্রার্থী হয়েছিলাম ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়। আর উনার অর্জন কী? কোথায় কী করেছেন, স্কুল-মাদ্রাসা-মসজিদ কোনটা প্রতিষ্ঠা করেছেন? আমি সেভেন মার্ডারের সময় যে ভূমিকা পালন করেছি, সেই ভূমিকার মতো ভূমিকা পালন করতে হলে তাঁর কয়েকবার জন্ম নিতে হবে।”
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত অভিযোগ করে বলেন, “মাসুদুজ্জামান মনে করছেন বিএনপি তাঁর মা-বাপ। তিনি যদি আগে থেকেই বিএনপি করতেন, তাহলে ২২ তারিখে কেন যোগ দিলেন? কখনো আমাদের সঙ্গে কাজ করার যোগাযোগও করেননি। তাঁর কথাবার্তা আর আচরণে স্পষ্ট—অর্থের দাম্ভিকতা ছাড়া তাঁর কিছুই নেই। আর যে অর্থের কথা বলছেন, সেটা সরকারের ব্যাংকের টাকা।”
এর আগে শনিবার দুপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের এক অনুষ্ঠানে মাসুদুজ্জামান বলেন, “ঢাল নাই, তলোয়ার নাই—নিধিরাম সরদাররা এমপি হতে চান। তাদের ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হওয়ার যোগ্যতাও নেই।”
মাসুদুজ্জামানের ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক মহল বলছে, আসন্ন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে ঘিরে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ নতুন করে মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে।









Discussion about this post