আড়াইহাজার প্রতিবেদক,
নারায়ণগঞ্জ :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত মাহমুদপুর ইউনিয়নের মরদাসাদী, আগুয়ান্দী, গহরদী, উচিৎপুরা ও রায়পুরা গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং আড়াইহাজার থানার ওসির একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মরদাসাদী গ্রামের সঙ্গে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বিরোধ দীর্ঘদিনের। প্রায়ই এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার মাগরিবের নামাজের পর মরদাসাদী গ্রামের কয়েকজন যুবক পূর্বশত্রুতার জেরে উচিৎপুরা বাজারে গিয়ে নুরু মিয়া নামের এক ব্যক্তির ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং পরে নুরু মিয়াকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনার খবর আশপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে মাইকিং করে গহরদী, আগুয়ান্দী, উচিৎপুরা ও রায়পুরা এলাকার শতাধিক গ্রামবাসী মরদাসাদী গ্রামের দিকে রওনা হয়। পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে মরদাসাদী গ্রামের লোকজনও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা ও গোপালদী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করলে একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এসময় থানার ওসির ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কাদিরদিয়া এলাকার সিয়াম মিয়া (২০), উচিৎপুরার তানভির হোসেন (১৯), ইমরান হোসেন (২০), সাইদুল ইসলাম (৩০), রূপ মিয়া (৩৭), মরদাসাদীর মাসুদ মিয়া (২১) ও ছোট বালাপুরের বিজয় মিয়া (২০)।
আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) সাঈফ উদ্দিন বলেন, “আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মরদাসাদী গ্রামের সঙ্গে আশপাশের গ্রামের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। বুধবারের ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”









Discussion about this post