নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :
পুলিশের কনস্টেবল পদ থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর রাজনীতিতে জড়ান শাহাদাত হোসেন। সিদ্ধিরগঞ্জে এসে তিনি বসতি গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তবে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও পুরনো পুলিশি প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাণ্ডব চালিয়ে আসছিলেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আলোচনায় আসেন এই শাহাদাত।
ঘটনার পর ফতুল্লা থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেনের পদ স্থগিত করা হয়েছে।
আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন এবং সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল।
ঘটনার বিবরণ:
গত ৫ নভেম্বর বিকেলে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় তিন সংবাদকর্মীকে দুই ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে। পরদিন (৬ নভেম্বর) বিকেলে আহত জাগো নিউজের সাংবাদিক মো. আকাশ খান বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয় মূল হামলাকারী শাহাদাত হোসেন (৬০) এবং সায়েদাবাদী শহীদকে (৫৫)। এছাড়া মামলায় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহাদাত নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আতা-ই রাব্বির বাবা।
গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঈনুদ্দিন কাদিরের আদালত পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করে শাহাদাতকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর কৃষক দল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাৎক্ষণিকভাবে শাহাদাতের পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।
উপসংহার :
ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নাগরিকরা। সাংবাদিকদের ওপর এ হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজ ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।









Discussion about this post