ফতুল্লা থানার সেই জামায়াত নেতা মাওলানা নাসির উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে পুলিশকে এমন তথ্যদিয়ে বিভ্রান্ত ছড়িয়েছে একটি চক্র। খবর পেয়ে ফতুল্লা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর কোন সত্যতা পায়নি। উল্টো জামায়াত নেতাকে ফতুল্লা চৌধুরী বাড়ীস্থ তাঁর নিজ বাড়ীতে পাওয়া গেছে।
আজ শনিবার (৮ নভেম্বর ২০২৫) দুপুরে এমন তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিভ্রান্ত করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থাকার ওসি (তদন্ত ) আনোয়ার হোসেন জানান, ফতুল্লা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ৩য় তলার গিয়ে তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি। জামায়াত নেতা মাওলানা নাসির উদ্দিনকে তার নিজ বাড়ীতে পেয়েছি। তিনিও এমন খবরে বিস্মিত হয়েছেন।
এমন ঘটনা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে নারায়ণগঞ্জ এর ব্যাপক সমালোচনা ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।
এই মাওলানা নাসির বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পুরোটা সময় মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বর্তমানে কারাগারে বন্দি কুখ্যাত চাঁদাবাজ শাহজাহান খানের সাথে মিলিত হয়ে নারায়ণগঞ্জে একটি চাঁদাবাদ চক্রে গড়ে তোলেন । ওই ঘটনার রেস ধরে বর্তমানে মাওলানা নাসির নানা কুটকৌশল চালিয়ে যাচ্ছে বলে জোড়ালো গুঞ্জন রয়েছে।
নিম্নে বিগত দিনে প্রকাশিত এমন মাওলানা নাসির চক্রের অপরাধের প্রতিবেদন হুবহু তুলে করা হইল :
দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের ওষুধ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি ও অনিয়মের মাধ্যমে অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেঙ্গারচর ইউনিয়নের মৃত হায়দার আলী খানের পুত্র শাহজাহান খান।
এক সময় এলাকায় চাঁদাবাজি ও নানা অপরাধে বিতাড়িত হয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জে আশ্রয় নেন।
পরে এখানেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও দুর্নীতির অভিযোগে নিজ এলাকা গজারিয়ায় শাহজাহান খান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে জুতা ও ঝাড়ুমিছিল হয়। এ ঘটনায় তিনি পালিয়ে নারায়ণগঞ্জে এসে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ কেমিস্টস্ অ্যান্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতির (নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা) পদে প্রভাব বিস্তার করেন।
নির্বাচন বাতিলের পরও ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন
সদ্য অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা কেমিস্টস্ অ্যান্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতির নির্বাচন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় পরিষদ বাতিল করেছে। গত ১০ মার্চ সমিতির কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সভায় ওই নির্বাচন ও বর্তমান কমিটি বাতিল করে পুনরায় সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। একইসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবের কার্যক্রমও স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দুই দিন পর, ১২ ও ১৩ মার্চ বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি নেফাউল ইসলাম জুয়েল এবং সিনিয়র সহসভাপতি জামায়াতে ইসলামী নেতা নাসির উদ্দিন ওরফে মাওলানা নাসিরের স্বাক্ষরে অগ্রণী ব্যাংকের সমিতির হিসাব থেকে প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকা উত্তোলন করেন শাহজাহান খান চক্র। এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় কমিটি ও সাধারণ সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত
সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহাজালাল বলেন, “পর্যবেক্ষণ টিমের প্রতিবেদনে নির্বাচনে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় ১৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাতিল এবং নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন কমিটি সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচনের আয়োজন করবে।”
শাহজাহান খানের দাবি
যোগাযোগ করা হলে শাহজাহান খান নির্বাচন বাতিলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমি কেন্দ্র থেকে কোনো বাতিলের চিঠি পাইনি। সমিতির প্রয়োজনে টাকা তোলা হয়েছে।” তবে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের বৈধতা বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আপনি পারসনালি দেখা করেন, তারপর বলব।”
সহযোগীদের ভূমিকা ও বিতর্ক
অভিযোগ রয়েছে, শাহজাহান খানের সহযোগী নেফাউল ইসলাম জুয়েল ও নাসির উদ্দিন অর্থ আত্মসাৎ প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। নাসির উদ্দিন বলেন, “শাহজাহান খান টাকা তুলেছে, কোথায় খরচ হয়েছে তা আমি জানি না।” তবে তিনি জামায়াতের সূরা সদস্য হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলে তিনি জামায়াত শিবিরের কোন রাজনীতির সাথে যুক্ত নন।
আতঙ্কে সাধারণ ব্যবসায়ীরা
চাঁদাবাজি ও মামলা দিয়ে ভয় দেখানোর কারণে সাধারণ ওষুধ ব্যবসায়ীরা তার নাম উচ্চারণ করতেও ভয় পান। অনেকে সরাসরি যোগাযোগ না করে হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তথ্য দিতে বাধ্য হন। অভিযোগ উঠেছে, শাহজাহান খান তার আত্মীয় পলাশের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংবাদকর্মীদেরও হয়রানি করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, “শাহজাহান খান ও তার সহযোগীরা ওষুধ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলে। কেউ প্রতিবাদ করলে মামলা, ভয়ভীতি বা হামলার শিকার হন।”
উপসংহার
একসময় গজারিয়ায় জনরোষের মুখে পালিয়ে আসা শাহজাহান খান এখন নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে নতুন অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় কমিটি তার নেতৃত্বাধীন কমিটি বাতিল করলেও এখনো তার প্রভাব ও ভয় দেখিয়ে চলছে নানা অনিয়ম।
📰 সংবাদ প্রস্তুত: নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট
📅 তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ ২০২৩
✍️ বিশেষ প্রতিনিধি









Discussion about this post