নিজস্ব প্রতিবেদক :
বির্তক যেন পিছু ছাড়ছে না নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও সদর উপজেলা) আসন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করা বিএনপি নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদের।
মহানগর বিএনপির ব্যানারে “বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য” শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে তিনি আবারও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
আজ শনিবার (৯ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের ব্যানারে আয়োজক হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নাম উল্লেখ থাকলেও মঞ্চে ছিলেন না মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ শীর্ষ নেতাদের কেউ।
এতে দলীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে—আসলে কার অনুমতিতে এবং কী উদ্দেশ্যে মহানগর বিএনপির নাম ব্যবহার করা হলো?
বিতর্কিত অতিথি তালিকা
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি করা হয় মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টুকে, যিনি তিন বছর আগে পদত্যাগ করেছিলেন। সম্প্রতি বিতর্কিত নেতা জাকির খানের প্রশংসায় মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিলেন সেন্টু।
এছাড়া প্রধান বক্তা ছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা সাগর, এবং সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনু।
যদিও ব্যানারে লেখা ছিল “বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য বিষয়ক আলোচনা সভা”, উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ও বক্তৃতার ভাষা স্পষ্টই ইঙ্গিত দেয়—এটি মূলত মাসুদুজ্জামান মাসুদের নির্বাচনী শোডাউন ছিল।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি স্বীকার করছে মাসুদের পক্ষ
অনুষ্ঠান শেষে মনির হোসেন সরদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মাসুদুজ্জামান মাসুদের পক্ষ থেকেই আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে এতে মহানগর বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
শীর্ষ নেতাদের অসন্তোষ
এই অনুষ্ঠান নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা।
আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এমন ঘটনায় সাংবাদিকদের বলেন, “মহানগর বিএনপির ব্যানারে যে প্রোগ্রাম করা হয়েছে, মহানগরের আহ্বায়ক হিসেবে আমি সেটা সম্পর্কে অবগত নই। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”
অন্যদিকে, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু আরও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “মহানগর বিএনপি ছাড়া কেউ মহানগর বিএনপির নাম ব্যবহার করার অধিকার রাখে না। যদি কেউ তা করে, তারা দলে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়। যারা এই কাজ করছে, তারা আওয়ামী লীগের দোসর বলেই মনে হয়। মহানগরের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের অনুমতি ব্যতীত এমন উদ্যোগ নেওয়া সংগঠনের শৃঙ্খলা বিরোধী।”
দলে বিভাজনের আশঙ্কা
বিএনপির অভ্যন্তরে সূত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে বিভাজন ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে। সাম্প্রতিক এই আয়োজন সেই ভেতরকার দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধরনের ‘অননুমোদিত রাজনৈতিক শোডাউন’ দলীয় ঐক্যে আঘাত হানতে পারে এবং প্রার্থী নির্বাচনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
সংক্ষিপ্ত উপসংহার :
বিপ্লব ও সংহতি দিবসের নামে আয়োজিত সভাটি নিয়ে যে বিতর্কের জন্ম হয়েছে, তা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে নতুন করে উন্মোচন করেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই বিভাজন কতটা গভীরে যাবে-—তা এখন দেখার বিষয়।









Discussion about this post