নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান ওরফে মডেল মাসুদকে ঘিরে মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।
বিএনপিতে যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই মনোনয়ন পাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক।
এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তার বিভিন্ন সময়ের তোলা ছবি ভাইরাল হয়।
এসব ছবি ঘিরে প্রশ্ন ওঠে— আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে বিএনপির প্রার্থী হলেন ?
এই সমালোচনার জবাব দিতে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের কনভেনশন সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন করেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুদুজ্জামান বলেন, “আমি ব্যবসায়িক কারণে সিটিজেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হয়েছি। কোনো রাজনৈতিক সুবিধা বা সম্পৃক্ততার কারণে নয়। আমাকে কখনো কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। অথচ এখন পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যাতে আমাকে বিতর্কিত করা যায়।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “৫ আগস্টের পরিবর্তন না হলে আমারই সবচেয়ে বড় ক্ষতি হতো। আমার প্রতিষ্ঠানের ২০ থেকে ২৫ হাজার কর্মচারীর জীবিকা হুমকিতে পড়তো। তৎকালীন জেলা প্রশাসক আমাকে সেই ষড়যন্ত্রের প্রমাণও দিয়েছিলেন, যেখানে কিছু রাজনীতিক ও ছাত্র সংগঠনের নাম ছিল।”
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের সঙ্গে তার ভাইরাল হওয়া ছবি নিয়েও তিনি ব্যাখ্যা দেন।
মাসুদ বলেন, “এসপি হারুনের সঙ্গে আমার ছবিটি ছিল হাজীগঞ্জ এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সময়ের। বহু বছর ধরে পুলিশ সেই জায়গাটি ব্যবহার করছে। আমি নিজেই সেখানে নতুন একটি ফাঁড়ি নির্মাণ করে দিয়েছিলাম। ভুল বোঝাবুঝি নিরসনের পর উদ্বোধনে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়,” বলেন মাসুদ।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি রাজনীতিতে এসেছি মানুষের জন্য কাজ করতে। এখানে আমার কোনো ব্যক্তিস্বার্থ বা ধান্দা নেই। আমি কিছু নিতে আসিনি, দিতে এসেছি।”
পটভূমি
বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই মাসুদুজ্জামান ওরফে মডেল মাসুদকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয় দলীয় হাইকমান্ড। এরপর থেকেই স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে থাকা একজন ব্যবসায়ীকে হঠাৎ গুরুত্বপূর্ণ আসনে মনোনয়ন দেওয়া দলের অভ্যন্তরে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।









Discussion about this post