স্টাফ রিপোর্টার :
ভারত থেকে আমদানি করা চাল বাজারে পৌঁছেছে বেশ কিছুদিন আগে। একই সময়ে মাঠে উঠতে শুরু করেছে নতুন আমন ধান। শীতের সবজির সরবরাহও এখন বাজারে দৃশ্যমান।
তবুও পণ্যমূল্যের লাগামহীনতা কমছে না। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা–বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে সোমবার এই চিত্র মিলেছে।
মার খাওয়াচ্ছে সবজির বাজার: ‘সেঞ্চুরি পার’ শিম–টমেটো–গাজর
সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের দিগু বাবুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শিম, বেগুন, টমেটো, গাজর—প্রায় সব শীতকালীন সবজির দাম ১০০ টাকার নিচে নামছে না।
শিম: ১২০–১৩০ টাকা (আগে ৬০–৮০ টাকা)
বেগুন: ৮০–১৬০ টাকা
টমেটো: ১২০–১৬০ টাকা
গাজর: ১৩০ টাকা
যদিও বাঁধাকপি ও ফুলকপির দাম কিছুটা কমেছে—৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর বাইরে পটোল, ঢ্যাঁড়স, করলা, বরবটি, কচুর লতি, ঝিঙে—এসব সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৮০, মুলা ৪০–৫০ এবং শসা ৬০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর মাসদাইর থেকে আসা ক্রেতা আলাল উদ্দিন বলেন, “শীতের সবজি এসেছে, কিন্তু দাম দেখে মনে হয় গরমের সময় কিনছি। এত দাম কেন—কেউ তার ব্যাখ্যা দিতে পারে না।”
পেঁয়াজের দাম স্থির হয়ে ‘উঁচুতেই’: ১৫ দিন ধরে ১২০ টাকা
গত দুই সপ্তাহে বাজারে পেঁয়াজের দাম লেগে আছে প্রতি কেজি ১২০ টাকায়। পাইকারদের দাবি, সরবরাহ কম বলে দাম কমার সম্ভাবনা সামান্য। আদার দাম ২০০ টাকায় ঠেকেছে। আলুও কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়তি দামে—৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুন আগের মতোই ১২০–১৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
মিনিকেট চালের দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে
ভারত থেকে আমদানি ও নতুন ধান উঠতে শুরু করায় মাঝারি ও মোটা চালে প্রভাব পড়েছে।
আটাশ চাল: ৫৫–৫৮ টাকা
মোটা চাল: ৫০ টাকা
তবে মিনিকেট চাল এক টাকাও কমেনি। সাগর, মনজুর, রশিদ ব্র্যান্ডের মিনিকেট এখনো ৭০–৮০ টাকায়, আর মোজাম্মেল, ডায়মন্ডসহ কিছু ব্র্যান্ড ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ পাইকারি বাজারের বিক্রেতা ইসমাঈল বলেন, “মাঝারি–মোটা চালের দাম কমলেও মিনিকেটের বাজার আলাদা। রাইসমিলে দাম না কমলে খুচরা বাজারে কমবে কীভাবে?”
তেলের বাজারে নতুন টানাপোড়েন
মিলমালিকরা দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলেও সরকার অনুমোদন না দেওয়ায় অনেক কোম্পানি বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাজারে সব ব্র্যান্ডের তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
খুচরা বিক্রেতারা জানান—
এক লিটার সয়াবিন: ১৮৯ টাকা
পাঁচ লিটার: ৯২২ টাকা
বাবুরাইল বউ বাজারের দোকানি পোকা মিয়া বলেন, “আগে সব ব্র্যান্ড পাওয়া যেত। এখন এক ব্র্যান্ড পেলে অন্যটা পাওয়া যায় না। কোম্পানিগুলো বেশি দাম ছাড়া মাল দিচ্ছে না।”
প্রোটিনের বাজারেও স্বস্তি নেই
সাদা ডিম: ডজন ১২৫
লাল ডিম: ১৩০
ব্রয়লার: ১৭০–১৯০
সোনালি মুরগি: ২৯০–৩০০
দেশি মুরগি: ৫৭০–৬০০
গরুর মাংস: ৭৫০–৭৮০
খাসির মাংস: ১১০০ টাকা
মাছের বাজারে আগুন—ইলিশ এখনো নাগালের বাইরে
বিক্রেতারা বলছেন, মাছের দাম কমেনি।
কাচকি: ৫০০–৬০০
চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরা: ৮০০–১২০০
রুই–কাতলা: ৩৫০–৫৫০
পাবদা: ৪৫০–৬০০
তেলাপিয়া–পাঙাশ: ২২০–২৬০
ইলিশের দাম এখনো সাধারণ মানুষের ধরা–ছোঁয়ার বাইরে। ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ইলিশ ১৮০০ থেকে ২৭০০ টাকা।
ভোক্তাদের প্রশ্ন—সরকারি তদারকি কতটা কার্যকর ?
সরকারের আমদানি, বাজার অভিযান ও মনিটরিং থাকা সত্ত্বেও নিত্যপণ্যের দাম কমছে না। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামানো না গেলে দামের অস্বাভাবিকতা দূর হবে না।
নগরীর খানপুরের ক্রেতা আরিফ হোসেন বলেন, “সরকার বলছে সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু বাজার বলছে অন্য কথা। মধ্যবিত্ত পরিবারের অবস্থা এখন খুবই করুণ।”









Discussion about this post