নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নং রেল গেইট এলাকার সোনার বাংলা মার্কেটের পিছনের গলিতে ইন্টারনেট ব্যবসা–কেন্দ্রিক বিরোধের জেরে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া।
হামলার পর মাটিতে ফেলে জিয়াকে লক্ষ্য করে গুলি করলেও অল্পের জন্য রক্ষা পায় জিয়া।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাত আটটার দিকে এই ঘটনা ঘটলে মুহূর্তেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীরা জানান, ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে জিয়ার সঙ্গে শহরের অপর একটি গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি ওই গ্রুপের লোকজন নাকি জিয়ার বাড়ির ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এই ঘটনার জের ধরেই মঙ্গলবার রাতে হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে বলে তারা ধারণা করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাত আটটার দিকে কয়েকজন সন্ত্রাসী হঠাৎ জিয়ার ওপর হামলা চালায়। প্রথমে তাকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। তাদের হাতে কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। তবে সৌভাগ্যক্রমে গুলিটি প্রাণঘাতী হয়নি এবং জিয়া বেঁচে যান।
অঞ্চলে আতঙ্ক ও দোকানপাট বন্ধ
গুলির শব্দ শোনা মাত্রই মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। এলাকার বাসিন্দারাও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন, কারণ একই গলির একই স্থানে অতীতে দয়াল মাসুদ নামের আরেকটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল বলে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
জিয়ার অবস্থান ও পুলিশের ভূমিকা
ঘটনার পর জিয়াউর রহমান জিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি এখন কোথায় চিকিৎসাধীন বা তার অবস্থা কেমন—এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ী সমাজে উদ্বেগ
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, ইন্টারনেট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে নগরে গ্রুপিং ও উত্তেজনা বাড়ছে। প্রকাশ্যে মারধর ও গুলির মতো ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।
এমন ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ডিউটি অফিসার অসীম মন্ডল জানান, গোলাগুলির ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ থানা পুলিশকে অবহিত করেন নাই বা অভিযোগ দেন নাই। ফলে এই ঘটনায় আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই।









Discussion about this post