নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ শহরের দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে পরিচিত এবং জোড়া খুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি এমএ মজিদ নতুন করে আলোচনায়।
আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে শহরের বাবুরাইল এলাকায় বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ সেখানে পৌঁছালে মজিদের পক্ষ থেকে তাকে ফুলের মালা দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। পাল্টা সম্মানসূচকভাবে মজিদের গলায়ও মালা পরিয়ে দেন মাসুদ।
অপরাধীদের ‘জনক’ হিসেবে পরিচিতি—এলাকাবাসীর ক্ষোভ
দক্ষিণাঞ্চলের একাংশে এমএ মজিদকে দীর্ঘদিন ধরে ‘অপরাধীদের জনক’ নামে ডাকা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। তাদের দাবি, এলাকায় অবৈধ স্ট্যান্ড, চাঁদাবাজি, দখল-বাণিজ্যসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার নাম বহুবার উঠে এসেছে। জোড়া খুন মামলায় চার্জশিটভুক্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অপরাধের ছাপ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশ মালা বিনিময় ঘটনাকে দেখে হতবাক। তাদের মন্তব্য—একজন রাজনৈতিক প্রার্থীর সঙ্গে এমন বিতর্কিত ব্যক্তির প্রকাশ্য সম্বন্ধ স্থাপন স্বচ্ছ রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরেও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর ভাষ্য, নির্বাচনী মাঠে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইলে প্রার্থীকে এসব বিতর্কিত সম্পর্ক এড়িয়ে চলা উচিত ছিল।
তবে মাসুদপক্ষ বলছে, এটি ছিল “নিরাপদ চলাচল ও সৌজন্যতার অংশ”—কোনো বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা নয়।
অবৈধ স্ট্যান্ড ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আবার সামনে
মালা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্ডলপাড়া এলাকায় আবারও আলোচনায় এসেছে অবৈধ স্ট্যান্ড পরিচালনা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা জানান, এসব স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য সংগ্রাম চলে আসছে, যেখানে মজিদ ও তার পক্ষভুক্তদের নাম উঠে আসে। যদিও এসব অভিযোগে তিনি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হননি।
নির্বাচন ঘিরে প্রশ্ন—কারা কার পেছনে ?
এলাকাবাসীর ধারণা, নির্বাচনী সময় ঘনিয়ে আসায় বিভিন্ন প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্বও প্রার্থীদের ঘিরে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে রাজনৈতিক মাঠে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দেয়।









Discussion about this post