মহানগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির তিন সাবেক নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মো. আতাউর রহমান মুকুল, শওকত হাসেম শকু ও মো. গোলাম নবী মুরাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বহিষ্কারের কারণ ও প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপট
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন নেতাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের নজরদারিতে রেখে, আবেদনের ভিত্তিতে এবং দলীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আতাউর রহমান মুকুল মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান যুগ্ম আহবায়ক, শওকত হাসেম শকু ও গোলাম নবী মুরাদ মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন। শকু ও মুরাদ নাসিকের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৩ সালের বিতর্কিত ঘটনাই বহিষ্কারের সূত্র
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের নির্বাচনী প্রচারণায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে তিনজনের বিরুদ্ধে। দলের হুইপ ও অবস্থান উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর প্রচারণায় সম্পৃক্ত হওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয় বিএনপি।
এই ঘটনাই মূলত তাদের বহিষ্কারের আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
দলীয় সিদ্ধান্তে নতুন বার্তা
একাধিক সূত্র বলছে, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক টানাপোড়েন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, বিরোধ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাদের ফেরানো হয়েছে।
এছাড়া চলমান আন্দোলন-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সক্রিয় কর্মী-নেতাদের এক ছাতার নিচে আনার প্রচেষ্টা হিসেবে সিদ্ধান্তটি বিবেচনা করা হচ্ছে।
মহানগর রাজনীতিতে প্রভাব
এই সিদ্ধান্ত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ—প্রত্যেকেই এলাকা-ভিত্তিক প্রভাবশালী সংগঠক। পূর্বের কাউন্সিলর পরিচয় তাদের জনসম্পৃক্ততা বাড়ায়
দীর্ঘদিনের বিভক্ত মহানগর বিএনপিতে দলীয় ঐক্যের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে
তবে সমালোচনার জায়গাও রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, জটিল অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ব্যক্তিভিত্তিক রাজনীতির মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকে আরও দৃশ্যমান করতে পারে।
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কমিটির সমন্বয়ে চ্যালেঞ্জ
স্থানীয় ইউনিটের অভিযোগ, নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে মহানগর কমিটির সঙ্গে পূর্ব আলোচনা হয়নি। ফলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের সংকট দেখা দিতে পারে।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে নেতারা মাঠে নামলেও আগের অভিযোগ ও ব্যক্তিগত বিরোধ পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
উপসংহার
তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারকে একদিকে বিএনপির সাংগঠনিক পুনরায় সংগঠনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে এটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ভূমিকা এবং ঐক্য কতটা দৃঢ় হয়—সেটিই এখন দেখার বিষয়।









Discussion about this post