স্টাফ রিপোর্টার:
আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হঠাৎ করেই তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশ। কয়েক সেকেন্ডের এই প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে মানুষ ঘর-বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বের হয়ে আসে। যেকোনো মুহূর্তে ভবন ধসে পড়ার আতঙ্কে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্টি হয় তীব্র আতঙ্ক।
তীব্র ঝাঁকুনিতে ভবন থেকে লাফ, দৌড়ে নামতে গিয়ে আহত বহু
ভূমিকম্পের সময় বহু ভবনে মানুষ আটকা পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো বহুতল ভবনে তীব্র দুলুনিতে ভেঙে পড়ে দেয়াল ও সিঁড়ির অংশ। আতঙ্কে অনেকে লাফ দিয়ে নিচে নামতে গিয়ে গুরুতর আহত হন।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী সারাদেশে কয়েকজন নিহত এবং শতাধিকের বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
বিভিন্ন হাসপাতালে ছোট-বড় আহত রোগীতে ভরে যায় জরুরি বিভাগগুলো।
আযানের ধ্বনি ও উলুধ্বনিতে কেঁপে ওঠে চারিদিক — সকল ধর্মের মানুষের প্রার্থনা
ভূমিকম্প শুরু হতেই নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদে মসজিদে একসঙ্গে শুরু হয় আযানের ধ্বনি।
অন্যদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে উলুধ্বনি, ঘণ্টাধ্বনি ও প্রার্থনায় মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।
হঠাৎ আসা বিপর্যয়ে সৃষ্টিকর্তার সহায়তা কামনায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একত্রে প্রার্থনায় মগ্ন হয়ে পড়ে।
জুমার নামাজের বয়ানে বিশেষ দোয়া
এ দিনটি ছিল পবিত্র জুমার দিন। ভূমিকম্পের আতঙ্ক কাটার পর মসজিদগুলোতে জুমার নামাজে বিপুল মানুষের সমাগম হয়।
ইমামগণ বয়ানে আতঙ্কিত মানুষের স্বস্তি ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষ মোনাজাত করেন। নিহতদের রূহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং পুনরায় এমন বিপর্যয় থেকে দেশকে রক্ষার জন্য আল্লাহর দরবারে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দোয়া করা হয়।
সারাদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী—একাধিক ভবনে ফাটল, কিছু ভবনের দেয়াল ধস, ঘরবাড়ির চিমনি–দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছে। যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
জনমনে দীর্ঘস্থায়ী আতঙ্ক
ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে। বহু এলাকায় এখনও উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
ভূমিকম্পের মাত্রা ও উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভবনগুলোতে ফাটল দেখা দিলে সতর্কতা অবলম্বন করে জরুরি পরিদর্শন করা প্রয়োজন।
মানুষের মনে এখনো আতঙ্ক
ভূমিকম্প থেমে গেলেও নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে মানুষের মনে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাসাবাড়ি ও অফিসে এখনো অনেকে ঢুকতে সাহস পাচ্ছেন না। রাস্তাঘাটে আলোচনা—আরেকটি বড় কম্পন কি আবার আসতে পারে ?









Discussion about this post