নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এই মনোনয়ন কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে চলছে বিতর্ক, সভা সমাবেশ, মিছিল, মশাল মিছিলসহ ব্যাপক সমালোচনা।
সমালোচনার পর এবার আজ ২২ শে নভেম্বর শনিবার প্রবাসী সাংবাদিক ড কনক সারোয়ার তার ফেসবুক পেজে নারায়ণগঞ্জ ১ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়াকে নিয়ে বিএনপি’র কর্ণধার তারেক রহমানের বরাবর একটি খোলা চিঠি তুলে ধরেছেন।
এই দিপু ভূঁইয়াকে নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত ছিল ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। নারায়ণগঞ্জের গডফাদারখ্যাত শামীম ওসমান তার শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটুর সাথে দিপু ভূইয়ার ব্যবসায়িক পার্টনারের বিষয়টি ছিলো একেবারে ওপেন সিক্রেট।
বর্তমানে শামীম ওসমানের ব্যবসা, সম্পত্তি, বাড়ি গাড়ি, সকল কিছুই রক্ষণাবেক্ষণ করছেন দিপু ভূঁইয়া।
খোদ চাষারায় বিশাল বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন শামীম ওসমান, তানভীর আহমেদ টিটু ও দিপু ভুঁইয়ার যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যা নিয়ে চলছে বিতর্ক। একই সাথে বিদেশে বসে শামীম ওসমানের ইশারায় নারায়ণগঞ্জের চেম্বার অফ কমার্স দখল করে দিপু ভূঁইয়া বাহিনী নামক একটি বাহিনী তৈরি করে নারায়ণগঞ্জে চালিয়ে যাচ্ছে রামরাজত্ব। এমন গুঞ্জন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে নারায়ণগঞ্জে !
নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জ–১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপুর নাম ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করছেন, গত ১৭ বছর মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং ব্যবসায়িকভাবে সুবিধা নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, শামীম ওসমান ও নজরুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন
২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ নিউজ আপডেট, দৈনিক বণিক বার্তাসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক সদস্য ওসমান পরিবারের সম্পত্তি ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। যদিও সেখানে নাম উল্লেখ করা হয়নি, স্থানীয়রা দাবি করেন, প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা ব্যক্তি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপুই।
প্রতিবেদনে ওসমান পরিবারের গার্মেন্টস, পরিবহন, আবাসন ও শিপিংসহ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার সম্পদের ব্যবস্থাপনায় ওই নির্বাহী সদস্যের ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ ছিল।
দলীয় ক্ষোভ : ‘যোগ্য ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা হয়েছে’
অনেক নেতাকর্মী মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজপথের আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় ও বঞ্চিত সাবেক জেলা সভাপতি এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামানকে প্রাথমিক তালিকায় না রাখায় তৃণমূল হতাশ হয়েছে।
কাজী মনিরুজ্জামান বিএনপির যুবদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক, দলের নির্বাহী সদস্য এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজীর কাছে পরাজিত হন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পূর্বের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে অতীতে একাধিকবার অভিযোগ ওঠে যে, মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপু অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে দলকে কুক্ষিগত করছেন। তবুও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতাদের।
পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটিতে ক্ষোভ
৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুতির পর বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন চরমে পৌঁছায়। নারায়ণগঞ্জে দলীয় সংঘর্ষে কয়েকজন নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনাও দলীয় সংকটকে আরও প্রকট করেছে।
বর্তমানে জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মাঠে নেমেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা ও তাঁদের সমর্থকেরা।
‘সঠিক প্রার্থী না দিলে আসন হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা’
স্থানীয়দের মতে, রূপগঞ্জ আসনে সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করতে ব্যর্থ হলে আসনটি হারানোর ঝুঁকি আছে। তৃণমূল নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।









Discussion about this post