স্টাফ রিপোর্টার:
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ ওমরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে রামপুরার একটি বাসা থেকে মোশারফ ওমরকে তুলে নেয় পুলিশের একটি বিশেষ টিম। পরে তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি ইউনিটে হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিকভাবে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এক ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তবে মামলার নম্বর, অভিযোগের ধারা এবং তদন্ত সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি পুলিশ।
মোশারফ ওমর সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের একজন প্রভাবশালী নেতারূপে পরিচিত। কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে দলীয় বিরোধ, স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল—যদিও বেশিরভাগ অভিযোগই তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন।
রামপুরা থেকে গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁ–কাঁচপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বিষয়টিকে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে দলের কয়েকজন নেতা জানান, ছাত্র হত্যার মামলায় গ্রেফতার দেখানোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ববহ; তাই পুলিশি তদন্তের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত অগ্রগতি ও মামলার নথি প্রকাশের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে।
গ্রেফতারের পর মোশারফ ওমরকে আদালতে হাজির করা হয়েছে কি না, কিংবা রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে কি না—এ সম্পর্কেও রাত পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়লেও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।









Discussion about this post