স্বাধীনতার পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে বিতর্ক ছিল প্রচুর। আদমজী জুট মিলের শ্রমিকদের বেতনের ৯ লাখ টাকা চাষাড়া সোনালী ব্যাংক থেকে ডাকাতি করে মোহাম্মদ আলী জনতার ধাওয়া খেয়ে সেই টাকার কিছু অংশ ছিটিয়ে পালিয়ে গেলেও তার ডাকাত দলের অনেকের শেষ রক্ষা হয়নি।
সেই ৯ লাখ টাকার ডাকাত সরদার মোহাম্মদ আলী বিতর্কিত ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে মাত্র কয়েক দিনের জন্য এফবিসিসিআইএল ব্যানার নিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদ ভবনে বসার সৌভাগ্য অর্জন করেন।
মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার হিসেবে দাবি করলেও মোহাম্মদ আলীর বিএনপিতে কোন পদ পদবী বা রাজনৈতিক পরিচয় নেই। এরপরও তিনি বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ব্যানার ফেস্টুন টাঙিয়ে সমালোচনার তুঙ্গে অবস্থান করছেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর অনেকের দাবি, মোহাম্মদ আলী আসলেই কোন দল করেন ? তার রাজনৈতিক পরিচয় কি ? বিএনপিতে যদি তার কোন পদ পদবী বা অবস্থান থাকতো তাহলে বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের চাটুকারিতা করার কারণে অসংখ্যবার বহিষ্কার হতেন তিনি । তাহলে এই মোহাম্মদ আলী এখন ব্যানারে নিয়ে করার দুঃসাহস দেখায় কি করে ? এখন এমন অসংখ্য প্রশ্ন নগর যুগে ঘুরপাক খাচ্ছে……
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির মনোনয়ন সংকটকে ঘিরে যখন উত্তাপ চরমে, ঠিক সেই মুহূর্তে আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বহুদিনের বিতর্কিত ব্যক্তি মোহাম্মদ আলী। ফতুল্লা থেকে শুরু করে পুরো নারায়ণগঞ্জজুড়ে এখন তার নাম নিয়েই চলছে আলোচনা, সমালোচনা ও নানা প্রশ্ন।
হঠাৎ আবার রাজনীতির ময়দানে মোহাম্মদ আলী
সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন—তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করবেন। শুধু ঘোষণা নয়, ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে পুরো ফতুল্লাজুড়ে ছড়ানো হয়েছে তার পোস্টার ও ব্যানার। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন চাঞ্চল্য।
দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তেজনা থাকা অবস্থায় তার এই ঘোষণা বিএনপির ভেতরেই নতুন ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে জানান স্থানীয় নেতারা।
বিতর্কের দীর্ঘ ইতিহাস
মোহাম্মদ আলীর রাজনৈতিক ইতিহাস যতটা পুরোনো, বিতর্কও ততটাই গভীর। বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতাদের দাবি, ২০০৬ সালে দলের পতনের নেপথ্যে থাকা প্রধান কারিগরদের একজন ছিলেন তিনি। একইসাথে ওয়ান-ইলেভেনের ‘মূল কুশীলব’ হিসেবেও তার নাম ব্যাপকভাবে প্রচারিত।
২০০৮ পরবর্তী সময় থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছর তাকে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলো। স্থানীয়রা তাকে ‘ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী’ কিংবা ‘চাটুকার’ হিসেবেও অভিহিত করতেন।
এমন পটভূমির একজন হঠাৎ আবার বিএনপির মনোনয়নের দাবিদার হয়ে সামনে আসায় দলের তৃণমূলসহ শীর্ষ মহলেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—
“কোথা থেকে এলো তার হঠাৎ পুনর্জন্ম ?”
১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘটনার ছায়া
১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপির ব্যানারেই তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে পরে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও বিতর্কিত ভূমিকার কারণে তাকে কার্যত দল থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলে বিএনপি নেতাদের দাবি।
একসময় দল থেকেই ছিটকে পড়া সেই ব্যক্তি এখন আবার দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ায় নেতাকর্মীরা বিস্মিত।
তৃণমূলে প্রতিক্রিয়া : সমর্থনের চেয়ে প্রশ্নই বেশি
ফতুল্লার শতাধিক কর্মীর সাথে কথা বলে জানা গেছে—
মোহাম্মদ আলীর হঠাৎ ফিরে আসাকে ‘কাশ্মীরি মশার মতো রাজনীতিতে হানা’ বলে ব্যঙ্গ করছেন তারা।
অনেকে বলছেন, “যে ব্যক্তি দুই যুগ ধরে দুই দলে খেলেছেন, তাকে কীভাবে গ্রহণ করবে তৃণমূল ?”
অন্যদিকে কিছু স্বল্প সংখ্যক অনুসারী দাবি করছেন, তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে ‘কিংমেকার’ ভূমিকা রাখেন এবং তার আবার মাঠে আসা বিএনপির জন্য লাভজনকই হবে।
বিএনপির অবস্থান
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় নেতৃত্ব কেউই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই মনোনয়ন–অভিযাত্রা নিয়ে মন্তব্য করেননি।
দলের একটি সূত্র বলছে—
“তার অতীত মূল্যায়ন না করে কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”
আবার কি শুরু হলো নতুন রাজনৈতিক নাটক ?
নারায়ণগঞ্জের অশান্ত রাজনৈতিক ময়দানে যখন প্রতিদিন নতুন নতুন পালাবদল ঘটছে, তখন মোহাম্মদ আলীর পুনরায় আবির্ভাব যেন সম্পূর্ণ নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে,
এটি হয়তো বিএনপির ভেতরকার নতুন ক্ষমতার লড়াইয়ের সংকেত।
আর তৃণমূলে চলছে একটাই প্রশ্ন—
“মোহাম্মদ আলীর প্রত্যাবর্তন—নেতৃত্বে নুতন বল, নাকি নতুন সংকট ?”









Discussion about this post