নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জে ২০২২ সালে সংঘটিত আলোচিত মাসুম হাওলাদার (৩৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. রানা ওরফে সোহেল ওরফে অটো রানা ওরফে জামাই রানা (৩০)–কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নারায়ণগঞ্জ জেলা। দুই বছর লুকিয়ে থাকার পর তথ্য–প্রযুক্তি ও গোপন নজরদারির মাধ্যমে তাকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয় পিবিআই।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোস্তফা কামালের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং নারায়ণগঞ্জ ইউনিট প্রধান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাশেদ, বিপিএম–এর নেতৃত্বে ২৩ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফতুল্লার কায়েমপুর ওয়াপদা পুল এলাকা থেকে বিশেষ অভিযানে রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার পটভূমি
২০২২ সালের ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার বাসিন্দা মাসুম হাওলাদার। রাতেও বাসায় না ফেরায় স্ত্রী শিরিন আক্তার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
দুই দিন পর, ৭ নভেম্বর সকালে বন্দর থানার কুশিয়ারি এলাকায় চন্ডীতলা কবরস্থানের পাশে খালের ডোবার মধ্যে স্থানীয়রা ভাসমান একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে পরিবার মরদেহটি মাসুম হাওলাদারের বলে শনাক্ত করে।
ঘটনার পর অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় হত্যা ও গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং ০৫, তারিখ: ০৭-১১-২০২২; ধারা ৩০২/২০১/৩৪)।
পিবিআইয়ের তদন্ত ও গ্রেফতার অভিযান
তদন্তের দায়িত্ব পান পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।
তিনি তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন অনুসন্ধান ও ধারাবাহিক নজরদারির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামি রানাকে শনাক্ত করেন।
দীর্ঘদিন পালিয়ে বেড়ানো রানা এলাকা বদল, পরিচয় গোপন এবং নাম পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কৌশলে গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পিবিআইয়ের গোয়েন্দা নজরদারিতে ধরা পড়ে।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রানা হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরদিন ২৪ নভেম্বর আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। সেখানে হত্যার শারীরিক ও পরিকল্পনাগত বিভিন্ন তথ্য আদালতে তুলে ধরেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তার মন্তব্য
পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর মো. হাবিবুর রহমান বলেন—“মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রধান আসামির গ্রেফতারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। অচিরেই আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।”
তিনি আরও জানান, মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উপসংহার
দীর্ঘ দুই বছর পর এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে। পিবিআইয়ের ধারাবাহিক অনুসন্ধানে নতুন আরও তথ্য উদঘাটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।









Discussion about this post