অনুসন্ধানী প্রতিবেদক :
ঘটনার সারসংক্ষেপ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কাদিরগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া করা মালবাহী জাহাজ কেটে স্টিল প্লেট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাহাজ মালিক রাকেশ শর্মা সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ ৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
জাহাজ ভাড়া নেওয়া ও কেটে ফেলার অভিযুক্ত প্রক্রিয়া
অভিযোগ অনুযায়ী, শাহাদাত হোসেন নেতৃত্বাধীন একটি সিন্ডিকেট ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম থেকে ডাম্ব বার্জ (DB) নামের জাহাজটি ৭ লাখ ২০ হাজার টাকায় এক মাসের চুক্তিতে ভাড়া নেয়।
জাহাজ ভাড়া নেওয়ার দায়িত্বে থাকা জাফর নামের ব্যক্তি মালবাহী কাজের কথা বলে জাহাজটি সোনারগাঁয়ে নিয়ে আসেন।
জাহাজ কেটে বিক্রি
জাহাজটি সোনারগাঁয়ের কাদিরগঞ্জ এলাকায় এইচবি হারুন অ্যান্ড ব্রাদার্স মেঘনা শিপইয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে ১০–১৫ জনের একটি দল জাহাজটি কেটে স্টিল প্লেট বিক্রি করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন :
শাহাদাত হোসেন, জাফর, ইকবাল হোসেন, নজরুল ইসলাম, এমদাদুল হক, জাফর মিয়া ও হোসেন।
ক্ষতির পরিমাণ
জাহাজের মালিক রাকেশ শর্মা জানান—জাহাজ কেটে বিক্রি করে তাদের প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।
একজন পরিচিত ব্যক্তি তাকে ফোনে জাহাজ কাটার তথ্য দিলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পান।
আইনি পদক্ষেপ
রাকেশ শর্মা মঙ্গলবার রাতে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন।
বুধবার সকালে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোনারগাঁ থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হাসান খান জানান— “মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলমান।”
অভিযুক্তদের বক্তব্য : শাহাদাত হোসেন (অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা) তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।
রফিকুল ইসলাম (শাহাদাতের বাবা ও শিপইয়ার্ডের মালিক / বিএনপি নেতা), তিনি জানান জাহাজ কাটার খবর পাওয়ার পর কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ
১. ভাড়া আনা জাহাজ কাটার বিষয়টি ‘চুক্তি ভঙ্গ’ ও ‘অবৈধ সম্পদ বাণিজ্য’-এর আওতাভুক্ত হতে পারে
জাহাজটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল মালবাহী কাজের জন্য। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী সেটি ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে কেটে ফেলা হয়েছে, যা চুক্তি লঙ্ঘন ও বিশ্বাস ভঙ্গের শামিল।
২. শিপইয়ার্ডের ভূমিকা ও দায়
শিপইয়ার্ডের মালিক রফিকুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী তারা বিষয়টি জানতে পেরে কাজ বন্ধ করেন। তবে জাহাজ কাটা শুরু করার অনুমতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল—এ বিষয়টি তদন্তের বিষয়।
৩. রাজনৈতিক পরিচয় তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে কি না
অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্থানীয় চাপ—উভয় দিক থেকেই বিষয়টি সংবেদনশীল।
পুলিশ বলছে, তদন্ত স্বচ্ছভাবেই চলছে।
উপসংহার
সোনারগাঁয়ে ভাড়া আনা মালবাহী জাহাজ কেটে বিক্রির অভিযোগটি একটি গুরুতর আর্থিক ও ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে তদন্তাধীন। মামলার তদন্ত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করেই প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারণ হবে। বর্তমানে একজন গ্রেপ্তার এবং মামলাটি তদন্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে।









Discussion about this post